দর্শনার্থীর সংখ্যা বাড়ছে
মো. মতিউর রহমান, স্টাফ রিপোর্টার, দিনাজপুর
দিনাজপুরে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি নবাবগঞ্জ শেখ রাসেল জাতীয় উদ্যান। এই জাতীয় উদ্যানটি ২০১০ সালে শেখ রাসেল জাতীয় উদ্যান হিসেবে স্বীকৃতি পায়। উদ্যানটি নবাবগঞ্জের ৫১৭ দশমিক ৬১ হেক্টর জায়গা জুড়ে অবস্থিত। নবাবগঞ্জ জাতীয় উদ্যানের মূল আকর্ষণ পঞ্চবটীর শালবন এবং শালবনের উত্তর পাশ ঘেঁষে বিশাল আশুড়ার বিল। এ বিলের আয়তন ২৫১ দশমিক ৭৮ হেক্টর।
স্থানীয়রা জানান, এক সময় এ বিলের সাদা শাপলা ও লাল পদ্মের আধিক্য উপভোগ করার মতো ছিল। শীত মৌসুমে অসংখ্য অতিথি পাখির সমাগম হয়। বিলের পাড় থেকে স্বচ্ছ পানির ঝরনা বহমান ছিল। বিপুল পরিমাণ দেশীয় প্রজাতির মাছ পাওয়া যেত এ বিলে। ফলে সরকারিভাবে আশুড়ার বিলটিকে মত্স্য অভয় অরণ্য হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এক সময় বিপুল পরিমাণ মাছ ঐ অভয় অরণ্য থেকে উত্পাদন হতো। যা এলাকার চাহিদা মিটিয়ে আশপাশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হতো। কিন্তু বিল পাড়ের কতিপয় লোকজন অল্প অল্প বিলের জমি দখল করে ধান চাষ শুরু করে। এক সময় বিলের অনেকটা অংশ তারা দখল করে। বিলে চাষকৃত ধানে কীটনাশক ও রাসায়নিক সার প্রয়োগ করায় বিলের পানি দূষিত হয়ে বিলের মাছ উত্পাদন ব্যাহত হয়। অপর দিকে বিলটি আস্তে আস্তে ভরাট হতে থাকে। বিলুপ্ত হয় শাপলা ও পদ্ম সমাহার। আস্তে আস্তে হারিয়ে ফেলে বিলটি তার সৌন্দর্য। বিলের হারানো সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনতে ও বিলটিকে দৃষ্টিনন্দন করতে ২০১৯ সালে স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগে বিলের পশ্চিম অংশে নির্মাণ করা হয় প্রায় ৯০০ ফিট দীর্ঘ কাঠের সেতু। এর পূর্ব অংশে বিলটির পানি ধরে রাখার জন্য নির্মাণ করা হয় ক্রসড্যাম। ফলে আশুড়ার বিল ও জাতীয় উদ্যানের দৃশ্যপট পালটে যায়। বিলে ও জাতীয় উদ্যানে আসতে শুরু করে হাজার হাজার দর্শনার্থী। পাশাপাশি বিলে উত্পাদন হয় বিপুল পরিমাণ বিলুপ্ত প্রজাতির মাছ। স্থানীয় দেওগাঁ গ্রামের সানাউল্লাহ জানান, বিল সংস্কারের ফলে দর্শনার্থীর সংখ্যা বেড়ে গেছে। এটি দর্শনীয় স্থানে পরিণত হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুন নাহার জানান, বিপুল পরিমাণ দর্শনার্থীদের সুবিধা দিতে আশুড়ার বিলের রাস্তা, বসার স্থান, বিদ্যুত্ ব্যবস্থা ও টয়লেট নির্মাণ করা হয়। তাছাড়া সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে চলমান রয়েছে নানা ধরনের কার্যক্রম।
