ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) সংবাদদাতা
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স জনবল সংকটসহ নানা সমস্যায় জর্জরিত। হাসপাতালে চিকিত্সকসহ যন্ত্রপাতি সংকটে ব্যাহত হচ্ছে চিকিত্সাসেবা। সেবা নিতে হাসপাতালে এসে রোগীরা পড়ছেন ভোগান্তিতে। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, হাসপাতালে ২৮ চিকিত্সক পদের বিপরীতে আছেন ১৮ জন। এর মধ্যে তিন জন রয়েছেন প্রেষণে। এছাড়া ১০ জন কনসালটেন্টের মধ্যে সাতটি পদই শূন্য। যদিও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, ৫০ শয্যা থেকে হাসপাতালটি ১০০ শয্যায় উন্নীতকরণের ফলে পুরোনো ভবন ভেঙে ফেলা হয়েছে। নতুন ভবণ নির্মাণের কাজ চলছে। ফলে মাত্র পাঁচটি কক্ষে একাধিক চিকিত্সককে বসে সেবা কার্যক্রম চালু রাখতে হচ্ছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, হাসপাতালে প্রায় এক বছর ধরে সিজারিয়ান কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। শুধু তাই নয়, হাসপাতালের এক্স-রে মেশিনটিও অকেজো দীর্ঘদিন ধরে। সংকট রয়েছে দাঁতের চিকিত্সার যন্ত্রপাতির। এছাড়া, হাসপাতালের বিদ্যুত্ সমস্যাও প্রকট। ফলে সেবা নিতে এসে রোগীরা পড়েন বিপাকে। রোগীদের অভিযোগ, হাসপাতাল চত্বরে আছে দালালদের দৌরাত্ম্য। এদিকে, হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতাকর্মীর তিনটি পদ থাকলেও কর্মরত আছে মাত্র একজন। ওয়ার্ড বয়ের পাঁচটি পদ শূন্য।
হাসপাতালে আগত রোগী সালমা, অজুফা ও রহিমা বেগমের অভিযোগ, তারা সকালে হাসপাতালে এলেও ১১টার আগে ডাক্তারদের দেখা পাননি। আবার ডাক্তারের কাছে সমস্যার কথা বলা শেষ হতে না হতেই ওষুধ লেখা শেষ করে কাগজ ধরিয়ে দেন। ফলে তারা কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। হাসপাতালের আবাসিক চিকিত্সা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. কিশোর কুমার ধর বলেন, হাসপাতালে ২৮টি চিকিত্সকের পদ থাকলেও বর্তমানে ১৮ জন আছেন। এই মুহূর্তে গাইনি ও এনেসথেসিয়ার ডাক্তার না থাকায় প্রসূতিসহ জরুরি অপারেশন করা যাচ্ছে না। রোগীদের সেবার জন্য ওয়ার্ড বয় ও পরিচ্ছন্নতা কর্মী জরুরি। প্রেষণে থাকা চিকিত্সকদের বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. খুরশীদ আলম জানান, হাসপাতালের পুরোনো ভবনটি ভেঙে ফেলায় শতভাগ স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না। তাছাড়া নতুন ভবন নির্মাণের কাজ চলছে। আশা করি, ১০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের ভবনটি নির্মাণ শেষ হলে শতভাগ সেবা নিশ্চিত করতে পারব।
