স্পোর্টস ডেস্ক
সন্তোষজনক শুরুর পরেও রিয়াল মাদ্রিদের জন্য ম্যাচটা হয়ে দাঁড়িয়েছিল সাক্ষাত্ এক দুঃস্বপ্ন। সব ভুলের রাতে রিয়ালের চার ডিফেন্ডারের প্রত্যেকে একটা করে গোল হজমে ‘অবদান’ রেখেছেন; তিন জন প্রতিপক্ষকে পেনাল্টি দিয়ে, অন্যজন আত্মঘাতী গোলে। তাতে ভ্যালেন্সিয়ার মাঠে ৪-১ ব্যবধানে হেরে লা লিগার চতুর্থ স্থানে নেমে এসেছে কোচ জিনেদিন জিদানের শিষ্যরা।
ভ্যালেন্সিয়ার মাঠ মেস্তায়ায় রিয়ালের দুঃস্বপ্নের শুরুটা হয় ৩৩ মিনিটে, লুকাস ভাসকেজের হ্যান্ডবলে। কার্লোস সোলেরের পেনাল্টি গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া ঠেকালেও ফিরতি চেষ্টায় ইউনুস মুসার শট জড়ায় জালে। তবে শট ঠেকানোর সময়ে মুসার অবৈধ অবস্থানের কারণে আবারও স্পটকিক দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন রেফারি। সে চেষ্টায় অবশ্য সোলের সফল। ভ্যালেন্সিয়া ফেরে ম্যাচে।
এর কিছুক্ষণ পর রাফায়েল ভারানের আত্মঘাতী গোলে পিছিয়ে পড়ে রিয়াল। বিরতির পর মার্সেলো ভ্যালেন্সিয়া ফরোয়ার্ড ম্যাক্সি গোমেজকে বক্সে অবৈধভাবে আটকে পেনাল্টি দেন ভ্যালেন্সিয়াকে। সোলের সেখান থেকে পান ব্যক্তিগত দ্বিতীয় গোল, ভ্যালেন্সিয়াও পায় দুই গোলের লিড।
ম্যাচে ঘণ্টার কাঁটা পেরোতেই আরো এক ভুল রিয়ালের, এবার করলেন খোদ অধিনায়ক সার্জিও রামোস। মুসার পায়ে পা রেখে বাঁধা দিলেন, হাতও লাগল বলে। পেনাল্টি থেকে হ্যাটট্রিক পূরণ করেন সোলের। ম্যাচ চলে যায় রিয়ালের ধরাছোঁয়ার বাইরে। রিয়ালের দুর্দশা বাড়িয়েছে ৮০ মিনিটে কুঁচকির সমস্যা নিয়ে বেনজেমার মাঠ ছেড়ে যাওয়া, এই বেনজেমার গোলেই ২৩ মিনিটে এগিয়ে গিয়েছিল রিয়াল।
চার ডিফেন্ডারের চার ভুলে গোল। দোষটা পরিষ্কারই খেলোয়াড়দের, তবুও কোচ জিনেদিন জিদান দোষ নিলেন মাথাপেতে। বললেন, ‘(বেনজেমার) গোলটার পর আমরা রক্ষণে কিছুটা অমনোযোগী হয়ে পড়েছিলাম, যা করছিলাম তা থেকে সরে এসেছিলাম। আমাদের সঙ্গে যা হয়েছে ন্যায্য হয়নি। আমাদের খেলাটাকে বোঝা কঠিন। আমি মনে করি না ভ্যালেন্সিয়া কৌশলগতভাবে আমাদের চেয়ে এগিয়ে ছিল। কিন্তু এই দোষ আমার, কারণ আমি কোনো সমাধান খুঁজে বের করতে পারিনি।’
অথচ গেল মৌসুমে এই রক্ষণই রিয়ালের লিগ শিরোপা পুনরুদ্ধারে কাজ করেছিল বড় নিয়ামক হিসেবে! সেই রক্ষণের এই নড়বড়ে অবস্থা দেখার পর জিদান জানালেন এ হারের কোনো অজুহাত নেই। রিয়াল কোচের ভাষ্য, ‘সবকিছু একসঙ্গে দেখা দিয়েছে আজ। এটা সত্য যে আমরা আগে যেমন রক্ষণকাজ করেছি, তেমনটা খেলতেই পারিনি। এর কোনো অজুহাত হয় না।’
