ইত্তেফাক রিপোর্ট
তৈরি পোশাক খাতের সরবরাহ চেইনকে টেকসই করার আলোচনা দীর্ঘদিন থেকেই চলছে। বিশেষত এর সঙ্গে যুক্ত শ্রমিকের জীবনমান উন্নয়ন, শ্রম আইনের প্রতিপালন, পরিবেশবান্ধব কারখানায় পোশাক উত্পাদনসহ সামাজিক কমপ্লায়েন্সের বিষয়টি নিয়ে চাপ রয়েছে উন্নয়ন সহযোগীসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের। তবে পোশাক উত্পাদনকারী ও সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ খাতের টেকসই উন্নয়নে কেবল উত্পাদনকারী নন, ক্রেতা প্রতিষ্ঠানসহ (বায়ার) এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যদেরও এগিয়ে আসতে হবে। এগিয়ে আসতে হবে সরকারকেও। এটি নিশ্চিত করা গেলে করোনার মতো যে কোনো দুর্যোগকালেও শ্রমিকের সুরক্ষাসহ এ খাতকে টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে। অন্যথায় টেকসই পোশাক খাত নিশ্চিত করা দুরূহ হবে। রবিবার রাজধানীর একটি হোটেলে সাসটেইনেবল অ্যাপারেল সামিটে বিশেষজ্ঞরা এ অভিমত দেন। ঢাকার নেদারল্যান্ডস দূতাবাস, দেশটির উন্নয়ন সংস্থা এসএনভি, ওয়ার্কিং উইথ উইম্যান ও গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ইমপ্রুভড নিউট্রিশন (জিএআইএন) ঐ সামিটের আয়োজন করে। দিনব্যাপী ঐ সম্মেলনের বিভিন্ন কর্ম অধিবেশনে সরকার, পোশাকশিল্পের মালিক ও শ্রমিক পক্ষের প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন।
আলোচনায় অংশ নিয়ে শ্রমিক নেত্রী নাজমা আক্তার এ খাতকে টেকসই করতে পোশাকের ন্যায্য দর নিশ্চিত করতে ক্রেতাদের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, অন্যথায় টেকসই পোশাক খাতের জন্য কেবল প্রকল্প বা কর্মসূচি নিয়ে কাঙ্ক্ষিত ফল মিলবে না।
তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সহসভাপতি মশিউল আজম সজল বলেন, গত কয়েক বছরে তৈরি পোশাক খাতকে টেকসই করতে কারখানার মালিকদের পক্ষ থেকে অনেক উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হয়েছে। কিন্তু ক্রেতারা কী করছে? পোশাকের দাম বাড়েনি। বরং গত পাঁচ বছর ধরে বছরে গড়ে দর কমছে ১ দশমিক ৭৯ শতাংশ হারে। সম্মেলন শেষে ইত্তেফাকের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, বহু অর্থ বিনিয়োগ করে পরিবেশবান্ধব কারখানা প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। ঐসব কারখানার পোশাকেরও দর বাড়েনি। সরবরাহ চেইনের অন্যদের বাইরে রেখে সব চাপ কেবল কারখানা মালিকের ওপর দিয়ে সব চাপ দিয়ে টেকসই তৈরি পোশাক খাত নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
ব্র্যাকের সোশ্যাল কমপ্লায়েন্স বিষয়ক পরিচালক জেনিফার জাব্বার বলেন, পোশাক খাতের সরবরাহ চেইনে সব পর্যায়ে মুনাফার ন্যায্য বণ্টন নিশ্চিত হলে শিল্প টেকসই হয়ে উঠবে।
টেকসই পোশাক খাতের স্বার্থে ক্রেতাদের পক্ষ থেকে ন্যায্য দর এবং সরকারের পক্ষ থেকে কম সুদে ঋণ নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন শ্রম সচিব কে এম আব্দুস সালাম।
এ সময় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন বিকেএমইএর সিনিয়র সহসভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর টুমো পুটিয়াইনেন বলেন, বাংলাদেশে নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূত হ্যারি ভারউইজ, এসএনভি বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর অ্যালার্ট ভ্যান প্রমুখ।
