আড়াইহাজারে সমবায় সমিতির শতকোটি টাকা লোপাট

আপডেট : ০৯ নভেম্বর ২০২০, ২২:২০

পথে বসেছেন ২ হাজারের বেশি সদস্য, থানায় অভিযোগ

আড়াইহাজার (নারায়ণগঞ্জ) সংবাদদাতা

আড়াইহাজার উপজেলার কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়নের একটি সমবায় সমিতি গ্রাহকের শতকোটি টাকা নিয়ে উধাও হয়ে গেছে। জীবনের সবটুকু সম্বল হারিয়ে হাজারো গ্রাহক পথে বসার উপক্রম হয়েছে। টাকা উদ্ধারে কোথাও সহযোগিতা না পেয়ে হতাশ হয়ে পড়ছেন ভুক্তভোগীরা। এ ঘটনায় গতকাল সোমবার ভুক্তভোগীরা থানায় ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে অভিযোগ দায়ের করেছেন।

মামলার বাদী ও ভুক্তভোগী সেলিনা আক্তার বেবী জানান, ২০০৮ সালের ১৪ অক্টোবর কালাপাহাড়িয়া  ইউনিয়নের ইজারকান্দি গ্রামের জব্বার হাজির স্ত্রী সুফিয়া বেগম তার নিজস্ব কিছু লোক নিয়ে তাদের নিজ বাড়িতে  ‘গণপ্রত্যাশা  সমিতি’  নামে একটি অফিস খুলে ব্যবসা শুরু করেন। বর্তমানে তাদের গ্রাহক ২ হাজার ১০০ জন।

তারা প্রত্যেক গ্রাহকের কাছ থেকে ৩ লাখ থেকে শুরু করে ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত সমিতিতে জমা রাখেন। এর মধ্যে তার নিজের রয়েছে ৬ লাখ টাকা। আয়শা আক্তার বিউটির রয়েছে ৮ লাখ টাকা। তিনি আরো জানান, এমনিভাবে ঐ সমিতিতে ২ হাজার ১০০ গ্রাহকের সমস্ত টাকা জমা রয়েছে।  গ্রাহকদের প্রতি লাখে মাসিক ৩ হাজার টাকা মুনাফা দেওয়ারও কথা রয়েছে। এমতাবস্থায় মহামারি করোনা শুরু হওয়ার পর থেকেই সমিতির প্রতিষ্ঠাতা সুফিয়া বেগম, প্রতিষ্ঠাতা সহসভাপতি ফজলুল হক ওরফে ফজুল্লাহ, ম্যানেজার সফিউল্লাহ সুমন, সচিব ও পরিচালক মুক্তি আক্তার এবং ক্যাশিয়ার রাশেদ রাজন অফিস গুটিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেন। কিন্তু তারা বিষয়টি বুঝে ওঠার আগেই অফিস কর্তৃপক্ষ ৩০ অক্টোবরের মধ্যে অফিসের সবকিছু অগোছালোভাবে ফেলে রেখে পালিয়ে যান। তাদের সব মোবাইল ফোন বন্ধ রয়েছে। এমতাবস্থায় সমিতির সদস্যদের  মাথায় হাত পড়েছে। কোনোভাবেই অফিস কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না তারা।

ভুক্তভোগী সেলিনা আক্তার বেবী, সাদিয়া আক্তারসহ আরো কয়েক জন সদস্য জানান, সমিতির উদ্যোক্তা সবাই কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা। ভুক্তভোগীরা জানান, গত ৩০ অক্টোবর থেকে অফিস বন্ধ থাকলেও তারা দুই-তিন দিন আগে বিষয়টি টের পান। ফলে তারা থানায় ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন। এ ব্যাপারে উপজেলা সমবায় অফিসার নাহিদা নাছরিন বলেন, তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আড়াইহাজার থানার ওসি নজরুল ইসলাম বিষয়টি  নিশ্চিত করে বলেন, ‘অভিযোগ পেয়েছি। আমরা ভুক্তভোগীদের কোর্টে মামলা করার পরামর্শ দিয়েছি।’

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সোহাগ হোসেন বলেন, ‘অভিযোগ পেয়েছি।  তদন্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’