হেরে গিয়ে বিপাকে ট্রাম্প

আপডেট : ০৯ নভেম্বর ২০২০, ২২:৩৫

যুক্তরাষ্ট্রে বেসরকারি ফলাফলে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী জো বাইডেনের কাছে হেরে গেছেন রিপাবলিকান প্রার্থী এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পরাজয় স্বীকার না করায় বিপাকে পড়েছেন ট্রাম্প। তার স্ত্রী মেলানিয়া এবং জামাতা জারেদ কুশনার জনগণের রায় মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। অন্যদিকে তার দুই সন্তানসহ ঘনিষ্ঠ কিছু রিপাবলিকান আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাদের পরামর্শে দেশ জুড়ে বড় সমাবেশ করার পরিকল্পনা করছেন বলেও জানা গেছে। খবর সিএনএন ও ডেইলি মেইলের

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রচারণা শিবির প্রচারণা চালাচ্ছে যে, প্রেসিডেন্ট দ্বিতীয় মেয়াদ ভোট চুরির মাধ্যমে জোর করে ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। ব্যাটলগ্রাউন্ড স্টেটসগুলোতে কারচুপি করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, তাদের এই প্রচারণা বেশ ভালোভাবেই মানুষের মনে সন্দেহের সৃষ্টি করেছে। মিশিগানে মৃত মানুষের ভোট দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে যার সত্যতা পায়নি সিএনএন। ট্রাম্প টুইটার বার্তায় বলেছেন, পেনসিলভেনিয়ায় অনেক ভোটই অসাংবিধানিক এবং নেভাদায় ৯ হাজারের বেশি ভোট পড়েছে যারা সেখানকার বাসিন্দা নন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প টুইটার বার্তায় জানিয়েছেন, মার্কিনিরা যে পর্যন্ত তাদের ভোটের ফল না পাবেন সেই পর্যন্ত আমি নিশ্চিন্ত হতে পারব না। আইনি লড়াই চালিয়ে যাব।

ফলাফল মানা নিয়ে ট্রাম্পের স্ত্রী ও জামাতার সঙ্গে সন্তানদের দ্বন্দ্ব

নির্বাচনি ফলাফল মেনে নেওয়া হবে কিনা—তা নিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পরিবারের মধ্যেই দ্বন্দ্ব দেখা দিয়েছে। স্ত্রী মেলানিয়া ট্রাম্প এবং জামাতা ও তার সিনিয়র উপদেষ্টা জারেদ কুশনার জনগণের রায়কে শ্রদ্ধা জানিয়ে ভোটের ফল মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। কিন্তু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ছেলে ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র এবং এরিক ট্রাম্প ফলাফল না মেনে আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তারা রিপাবলিকানদেরকেও ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তারা কয়েকটি রাজ্য সফর করে জনগণের মধ্যে প্রচারণা চালাচ্ছেন যে, নির্বাচনে কারচুপি ও জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছে। তবে ট্রাম্পের নির্বাচনি প্রচারণার ম্যানেজার জ্যাসন মিলার বলেন, জারেদ কুশনার ফলাফল মানতে আহ্বান জানিয়েছেন এমন তথ্য ঠিক নয়। তিনি বরং আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে ভোটের সঠিক ফল বের করে আনার কথা বলছেন।

কেন হারলেন ট্রাম্প?

যারা চার বছর আগে তাকে সমর্থন দিয়েছিলেন, তাদের একটা অংশ আবার ট্রাম্পের মারমুখো আচরণের কারণে এবারে পিছপা হয়েছেন। এটা বেশি সত্যি শহরতলির ক্ষেত্রে। শহরতলি এলাকায় নারীদের সমর্থন পাওয়ার ক্ষেত্রে ট্রাম্প সুবিধা করতে পারেননি। উচ্চ শিক্ষিত রিপাবলিকান, যারা চার বছর আগে ট্রাম্পকে ভোট দিয়েছিলেন, তারা তাকে আবারও একটা সুযোগ দিতে রাজি ছিলেন। যদিও তিনি ঠিক প্রেসিডেন্টসুলভ ছিলেন না। তারা জানতেন যে ট্রাম্প ঠিক অন্যদের মতো হবেন না। কিন্তু যেভাবে তিনি একের পর এক প্রথা ও আচরণগত নিয়ম ভেঙেছেন তা অনেকের কাছেই ছিল আপত্তিকর। তারা দূরে সরে গেছে তার মারমুখো আচরণ ও বর্ণবাদী উত্তেজনায় তার ইন্ধন জোগানোর কারণে। অশ্বেতাঙ্গদের তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে, বর্ণবাদী শব্দ ব্যবহার করে করা তার টুইটের কারণে। অনেক সময়ে শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদকে নিন্দা করতে তার ব্যর্থতার কারণে। আমেরিকার চিরাচরিত মিত্রদের দূরে ঠেলে দেওয়া, কিংবা পুতিনের মতো কর্তৃত্ববাদীদের প্রশংসা করাও অনেকে ভালো চোখে দেখেনি।