বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশকে আলাদা করার সুযোগ নেই

আপডেট : ১০ নভেম্বর ২০২০, ০১:২৭

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেছেন, বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশকে আলাদা করে দেখার কোনো সুযোগ নেই। বাংলাদেশকে জানতে হলে, বাঙালির মুক্তি সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে জানতে হবে, বঙ্গবন্ধুকে জানতে হবে। এই দুই সত্তাকে আলাদাভাবে দেখার চেষ্টা যারা করেছেন, তারা ব্যর্থ হয়েছেন। আজকের বাস্তবতাই এর সবচেয়ে বড় প্রমাণ। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষে ‘মুজিববর্ষ’ উদযাপন উপলক্ষ্যে গতকাল সোমবার সংসদের বিশেষ অধিবেশনে দেওয়া স্মারক বক্তৃতায় রাষ্ট্রপতি একথা বলেন।

সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সন্ধ্যায় অধিবেশন শুরু হয়। রাষ্ট্রপতি সংসদ কক্ষে প্রবেশের সময় বিউগলে বাজানো হয় বিশেষ সুর (ফ্যানফেয়ার)। পরে তিনি নিজের আসনের সামনে দাঁড়ান, তখন জাতীয় সংগীত বাজানো হয়। স্পিকারের ডান পাশে লাল গদি মোড়া চেয়ারে বসেন রাষ্ট্রপতি। সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২৯০ জনের মত সংসদ সদস্য এসময় অধিবেশন কক্ষে উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রপতি সাদা পাজামা-পাঞ্জাবির ওপর মুজিব কোট পরেছিলেন। দুই-একজন ছাড়া আওয়ামী লীগের উপস্থিত সকল এমপির গায়ে মুজিব কোট ছিল। অসুস্থতার কারণে প্রধান বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ অধিবেশনে উপস্থিত ছিলেন না। বিএনপির সংসদ সদস্যরাও বিশেষ এই অধিবেশনে যোগ দেন। করোনার কারণে সবার মুখে মাস্ক ছিল।

রাষ্ট্রপতি আসন গ্রহণের পর ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পর দেওয়া ভাষণ প্রচার করা হয় সংসদ কক্ষে। এসময় আবেগ আপ্লুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কয়েকবার চোখ মুছতে দেখা যায়। বঙ্গবন্ধুর ভাষণের মাঝে-মাঝে সংসদ সদস্যরা টেবিল চাপড়ান। ভাষণ শেষ হলে ‘জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দেন সাবেক চিফ হুইপ আসম ফিরোজ। অন্য সংসদ সদস্যরাও এসময় তার সঙ্গে স্লোগান দেন।

এরপর স্পিকারের বাঁ পাশে রাখা ডায়াসে দাঁড়িয়ে ভাষণ দেন রাষ্ট্রপতি অব্দুল হামিদ। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শুধু একটি নাম নয়। বঙ্গবন্ধু একটি প্রতিষ্ঠান, একটি সত্তা, একটি ইতিহাস। জীবিত বঙ্গবন্ধুর মতই অন্তরালের বঙ্গবন্ধু শক্তিশালী। যতদিন বাংলাদেশ থাকবে, বাঙালি থাকবে, এদেশের জনগণ থাকবে, ততদিন বঙ্গবন্ধু সকলের অনুপ্রেরণার উত্স হয়ে থাকবেন। তিনি বলেন, নিপীড়িত-নির্যাতিত মানুষের ‘মুক্তির আলোকবর্তিকা’ হয়ে বঙ্গবন্ধু বিশ্বকে করেছেন আলোকময়। তাই আমাদের ভবিষ্যত্ প্রজন্ম যাতে বঙ্গবন্ধুর নীতি, আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে বেড়ে উঠতে পারে, সেলক্ষ্যে সকলকে উদ্যোগী হতে হবে।

আবদুল হামিদ বলেন, স্বাধীনতার সুফল প্রতিটি ঘরে পৌঁছে দিতে হবে। বঙ্গবন্ধুর ‘সোনার বাংলা’ গড়ে  তোলার অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সবচেয়ে বড় প্রয়োজন ঐক্য। জনগণের ঐক্য, বিশেষ করে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের ঐক্য। যে ঐক্য একাত্তরে আমাদেরকে এক করেছিল, সেই ঐক্যই গড়ে তুলতে হবে সামপ্রদায়িকতা, অগণতান্ত্রিকতা, অসহিষ্ণুতা ও সহিংসতার বিরুদ্ধে। গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে রাজনৈতিক দলগুলোকে পরমত সহিষ্ণুতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। যারা কল্পিত কাহিনী ও পরিস্থিতি বানিয়ে দেশের সরলপ্রাণ মানুষকে বিভ্রান্ত ও বিপথগামী করে দেশের শান্তি ও অগ্রগতির ধারাকে ব্যাহত করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে একাত্তরের  চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। তাহলেই প্রতিষ্ঠিত হবে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা, সার্থক হবে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন।