জাতিকে আত্মপরিচয় দিয়েছেন বঙ্গবন্ধু

আপডেট : ১০ নভেম্বর ২০২০, ০১:২৯

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন—একটি দেশ, একটি জাতিকে আত্মপরিচয় দেওয়া কঠিন কাজ। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সেই কাজটা করেছেন। আর এটা করতে গিয়ে তাকে অত্যাচার নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। এত কষ্ট করে যিনি স্বাধীনতা এনে দিলেন, সেই স্বাধীন দেশটা যখন তিনি গড়ে তুলছিলেন তখনই তাকে হত্যা করা হয়। ১৯৭৫-এর ১৫ আগস্ট যদি না ঘটত তাহলে বহু আগেই বাংলাদেশ উন্নত দেশে পরিণত হতো। এক সময় ইতিহাস থেকে বঙ্গবন্ধুর নামও মুছে ফেলা হয়েছিল। গতকাল সোমবার জাতীয় সংসদের বিশেষ অধিবেশনে বিশেষ আলোচনার মাধ্যমে জাতির পিতার প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা নিবেদনের প্রস্তাব উত্থাপন করে প্রধানমন্ত্রী একথা বলেন। এ সময় তিনি আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন।

বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীতে ‘মুজিববর্ষ’ উদ্যাপন উপলক্ষ্যে গতকাল থেকে সংসদের এই বিশেষ অধিবেশনের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের ভাষণের পর ২০ মিনিটের বিরতি দেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। বিরতির পর অধিবেশন শুরু হলে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা এই প্রস্তাব উত্থাপন করেন। এরপর প্রস্তাবটির ওপর সাধারণ আলোচনা শুরু হয়।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বক্তব্যে বলেন, পাকিস্তান সৃষ্টির পেছনে পূর্ববঙ্গের মানুষের বড় অবদান ছিল। কিন্তু সেই পাকিস্তান সৃষ্টির পর পূর্ববঙ্গের মানুষের ওপরই নির্যাতন নেমে আসে। বঙ্গবন্ধু তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদে নামেন। জাতির পিতা সবসময় মানুষের জন্য চিন্তা করতেন। পাকিস্তান সৃষ্টির সাত-আট মাসের মধ্যে বঙ্গবন্ধুকে তিনবার গ্রেফতার করা হয়। তিনি অল্প সময়ের মধ্যে ছয় দফা দিয়েছিলেন। মানুষ এ ছয় দফাকে দ্রুত গ্রহণ করেন। বঙ্গবন্ধু ছয় দফার সমর্থনে যেখানেই বক্তব্য দিতে গেছেন সেখানেই তিনি গ্রেফতার হয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা বঙ্গবন্ধুর আদর্শ নিয়েই বাংলাদেশটাকে গড়ে তুলতে চাই। পাকিস্তানের কারাগারে তাকে এত নির্যাতন করা হতো সেটা তিনি আমাদের বলেননি। আমার ছোট বোন শেখ রেহানা প্রায়ই জিজ্ঞাসা করত। তিনি বলতেন, তুই সহ্য করতে পারবি না, জানার দরকার নেই। ’৭৫ এ বঙ্গবন্ধুকে শুধু রাষ্ট্রপতি হিসেবে হত্যা করা হয়নি, পরিবারের সব সদস্যকে হত্যা করা হয়। আমার ছোট ভাইটিও রেহাই পায়নি। আমরা বিদেশে ছিলাম তাই বেঁচে গিয়েছিলাম।

প্রধানমন্ত্রীর উপস্থাপিত প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ২৬ মার্চ ১৯৭১ এর প্রথম প্রহরে জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। এরপর দীর্ঘ ৯ মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্য দিয়ে ৩০ লাখ মহান শহিদ ও দুই লাখ মা-বোনের আত্মত্যাগের বিনিময়ে বাংলাদেশ স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশ হিসেবে বিশ্বের মানচিত্রে স্থান লাভ করে। বঙ্গবন্ধু আমাদের দিয়েছেন একটি স্বাধীন রাষ্ট্র, লাল সবুজের পতাকা ও সংবিধান। বঙ্গবন্ধু বিশ্বসভায় বাঙালিকে আত্মপরিচয় নিয়ে গর্বিত জাতিরূপে মাথা উঁচু করে চলার ক্ষেত্র রচনা করেছেন। স্বাধীনতার পর একটি যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশকে গড়ে তোলার জন্য মাত্র সাড়ে তিন বছর সময় পেয়েছিলেন তিনি। সেই সময়কালে বাংলাদেশের উন্নয়নের সামগ্রিক পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেন তিনি। ২০২০ সালে জন্মশতবার্ষিকীতে মুজিববর্ষ উদ্যাপন উপলক্ষ্যে তার বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক এবং কর্মময় জীবন ও দর্শনের ওপর জাতীয় সংসদে বিশেষ আলোচনার মাধ্যমে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা নিবেদন করা হোক।