পৃথিবীতে মোট মশার সংখ্যা আনুমানিক কত? মনে হতেই পারে, এটারও হিসেব করা কি সম্ভব? হ্যাঁ সম্ভব। বিজ্ঞানীদের মতে, পৃথিবীতে মোট মশার সংখ্যা বর্তমানে ১১০ ট্রিলিয়ন। এক ট্রিলিয়ন সমান এক লাখ কোটি। সেই হিসেবে বলা যায়, বিশ্বে মোট ১১০ লাখ কোটি মশা রয়েছে। মানুষের থেকে মশার সংখ্যা ১৫ হাজার গুণ বেশি! অর্থাত্ প্রতিটি মানুষের জন্য গড়ে বরাদ্দ মশার সংখ্যা ১৫ হাজারের কাছাকাছি।
রবার্টা পোনার ‘হোয়াট বাগড দ্য ডাইনোসর’ গ্রন্থে লিখেছেন, মশারা খাদ্যশৃঙ্খলে শীর্ষ শিকারি ছিল এবং তারা ডাইনোসরগুলোর চূড়ান্ত পরিণতিতে আজকের মতোই ভূমিকা রেখেছিল। ডাইনোসরদের বিলুপ্তির পরে মশারা কেবল টিকেই থাকেনি বরং এদের আরো ভালো মতো বিকাশ ঘটেছে। এমনকি মানব সভ্যতায় বেশ ভুতুড়ে ভূমিকা নিয়েছে মশারা। ব্যাপারটি চমকপ্রদ। ওয়াইনগার্ড তাঁর নতুন বই ‘মসকিউটো : এ হিউম্যান হিস্টোরি অফ আওয়ার ডেডলিয়েস্ট প্রিডেটর’ বইতে লিখেছেন, মশারা ভুবন বিখ্যাত আলেকজান্ডারের পতন ঘটাতেও সাহায্য করেছিল। কারণ, ধারণা করা হয় আলেকজান্ডারের মৃত্যু হয়েছিল ম্যালেরিয়াতে আক্রান্ত হয়ে। ইতিহাসবিদ ওয়াইনগার্ড লিখেছেন, বিশ্বের পূর্ব ও পশ্চিমকে একত্রিত করার আগেই আলেকজান্ডারের মৃত্যু হয়েছিল। এই মারাত্মক ম্যালেরিয়ার মশা যদি আলেকজান্ডারের জীবনকে শেষ না করত তবে দূর প্রাচ্য পর্যন্ত এগিয়ে যেতে পারতেন। আর মানব সভ্যতার ইতিহাসও অনেকটাই পালটে যেত।
আরো চমকপ্রদ তথ্য হলো, চেঙ্গিস খান ও তার মঙ্গোলিয়ান সেনাবাহিনীর অগ্রযাত্রাও থেমে গিয়েছিল ম্যালেরিয়ার কারণে। ওয়াইনগার্ড লিখেছেন, মশা পশ্চিমকে পুরোপুরি ছাপিয়ে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করেছিল। মশা তার মারণশক্তিকে ব্যবহার করে মঙ্গোলদের বিজয়ের লাগাম টেনে ধরেছিল। এ কারণে মঙ্গোলদের ইউরোপ যাত্রা পথিমধ্যেই থেমে গিয়েছিল। সুতরাং এটা স্পষ্ট যে, প্রাচীন সাম্রাজ্যের উত্থান এবং পতনের ক্ষেত্রে মশারা বিশেষ ভূমিকা রেখেছিল।
