সমকালীন

চলনবিলের পাখি

আপডেট : ১০ নভেম্বর ২০২০, ১৯:১২

অতিথি পাখিদের কিচিরমিচিরে মুখর হয়ে উঠেছে চলনবিল। তাদের নিধন করা হচ্ছে, বিক্রি করা হচ্ছে বাজারে। মাঝেমধ্যে প্রশাসন ও পরিবেশকর্মীদের অভিযানে পাখিশিকারিদের আটক করে জেল-জরিমানা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। তবু থেমে নেই পাখিশিকারিদের দৌরাত্ম্য।

বিলে পাখির কোলাহল, ডানা মেলে অবাধ বিচরণ, ঝাঁকে ঝাঁকে ওড়াউড়ি সবার দৃষ্টি কাড়ে। দিনের আলোয় চলনবিলজুড়ে দলবদ্ধ অতিথি পাখির বিচরণ মুগ্ধ করবে যে কাউকে। ঝাঁকে ঝাঁকে চখাচখি, পানকৌড়ি, বক, হরিয়াল, হারগিলা, রাতচোরা, বালিহাঁস, ইটালি, শর্লি, পেঁয়াজখেকো, ত্রিশূল, বাটুইলা, নারুলিয়া, লালস্বর, কাদাখোঁচা, ফেফি, ডাহুক, গোয়াল, শামুকখোল, হটটিটি, ঘুঘুসহ নানা প্রজাতির পাখি আসতে শুরু করেছে। ফাঁদ পেতে দেশি ও অতিথি পাখি শিকারে একদিকে যেমন জীববৈচিত্র্য নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে ফসলি জমিতে বাড়ছে ক্ষতিকর পোকার আক্রমণ।

তাড়াশ, উল্লাপাড়া, শাহজাদপুর, চাটমোহর, ভাঙ্গুড়া, গুরুদাসপুর, সিংড়া ও আত্রাই উপজেলা সদর থেকে দূরে প্রত্যন্ত এলাকায় সবচেয়ে বেশি পাখি কেনাবেচা হচ্ছে। ফলে এই এলাকায় শিকারিদের আনাগোনাও বেশি। এসব এলাকায় প্রশাসনের লোকজন তেমন আসেন না। বাজারে পাখির প্রচুর চাহিদা। তাই কোনোমতে ধরতে পারলেই বিক্রি করতে সমস্যা হয় না। প্রতিজোড়া পাখি প্রজাতিভেদে ১৫০ থেকে ৫০০ টাকায় বিক্রি হয়। বেশি লাভের আসায় অনেকেই দৈনন্দিন কাজ বাদ দিয়ে পাখি শিকার করছেন!

সব কিছুরই একটা সৌন্দর্য রয়েছে। তেমনি চলনবিলের সৌন্দর্য জীববৈচিত্র্য। জীববৈচিত্র্য ছাড়া চলনবিলের সৌন্দর্য ম্লান। প্রতি বছর পাখি নিধনের মধ্য দিয়ে চলনবিলের সৌন্দর্য নষ্ট হচ্ছে। চলনবিলের পাখিরা বাঁচতে চায়। আসুন, আমরা জনসচেতনতা বাড়িয়ে পাখি নিধন বন্ধ করি।

আবু জাফর সিদ্দিকী