>> শাহরিয়ার নাসের
সায়মান হোসেন সাকিব, একজন তরুণ সফল ফ্রিল্যান্সার। পড়ালেখা করছেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগে চতুর্থ বর্ষে। ছাত্র অবস্থায়ই পরিবারকে সাহায্য করে যাচ্ছেন নিজের সাধ্যানুযায়ী। ফ্রিল্যান্সিং জগতে তার সাফল্যের পথে ছিল নানা প্রতিবন্ধকতা। সব প্রতিবন্ধকতা পেরিয়েই তিনি আজ সফল।
সায়মান হোসেন সাকিবের জন্ম ও বেড়েওঠা চট্টগ্রামের রাউজানে। পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ার সময় তিনি বাবাকে হারান। পরিবারের মা আর দুই ভাই ও দুই বোনের মধ্যে সাকিব সবার ছোট। ছোটবেলা থেকেই স্বপ্ন ছিল ভালো কিছু করার। অষ্টম শ্রেণিতে পড়ার সময় ফ্রিল্যান্সিং সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা নিতে শুরু করেন সাকিব। তখন থেকেই টুকটাক বিভিন্ন বিষয় জানার চেষ্টা করেন। ধীরে ধীরে নিজেকে তৈরি করে ২০১১ সালে ওডেস্কে অ্যাকাউন্ট খুলেন। বর্তমানে সেই অ্যাকাউন্ট দিয়েই তিনি কাজ করেন আপওয়ার্কে। সময়টা ২০১৭ সাল। বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পেয়েই পুরানো স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে মনযোগী হন তিনি। তবে নিজের ল্যাপটপ না থাকলেও রুমমেটের ল্যাপটপ দিয়ে ইউটিউব থেকে ভিডিও দেখে প্র্যাকক্টিস করা শুরু করেন। একই বছর শিক্ষাবৃত্তি পান সাকিব। এরপর তিনি সেখানে গ্রাফিক্সের একটি কোর্স করেন। বছরের শেষদিকে তার জমানো কিছু টাকার সঙ্গে বড়ভাই ও বোন আরও কিছু টাকা যোগ করে একটি ল্যাপটপ কিনে দেয়। সেই থেকে নিজের ল্যাপটপে কাজ করা শুরু তার। নিজের চর্চার জন্য বিনামূল্যেই তিনি অনেকের কাজ করতেন।
শুরুর দিকে কাজ নিয়ে কিছুটা সমস্যার সম্মুখীন হলেও নিজেকে টানা প্রস্তুত করেছেন। সাকিব বলেন, এই পরিস্থিতির পর আমি উপলব্ধি করলাম যে, নিজের সমস্যা নিজেকেই সমাধান করতে হবে। তবে ধৈর্য্যহারা হইনি। সারাক্ষণ ফাইভারে অ্যাক্টিভ থাকতাম। প্রথম মাস ডিসেম্বরে ইনকাম ছিল ৫ ডলার। সেখান থেকে পরের মাসে আসে ২০ ডলার। এরপর ধীরে ধীরে বাড়তে বাড়তে তা ভালো একটি এমাউন্টে পৌঁছে।
অন্য দশজন সফল ফ্রিল্যান্সারের মতো সাকিবকেও অনেক সংগ্রাম করতে হয়েছে। স্ট্রাগলের কথা বলতে গিয়ে সাকিব বলেন, আমি যদি আমার স্ট্রাগলের ব্যাপারে বলতে যাই তাহলে বলব, এই অবস্থানে আসার জন্য আমাকে অনেক স্ট্রাগল করতে হয়েছে। আমি কাজের পাশাপাশি অ্যাসাইনমেন্ট, ক্লাস, ক্লাস টেস্ট সবকিছুই মেন্টেইন করেছি। এখনও করছি।
সাকিবের স্বপ্ন—বড় একটি আইটি ফার্ম খোলা। তিনি এরইমধ্যে ছোট পরিসরে হ্যাশনেক্ট নামে একটি প্রতিষ্ঠান চালু করেছেন। সরকারের লার্নিং আর্নিং ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টে প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করছেন।
