‘শেখ হাসিনার উদ্যোগ, ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ’ প্রধানমন্ত্রীর এই শ্লোগানকে বাস্তবায়ন করতে টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে ফেরি করে গ্রাহকদের বাড়ি বাড়ি বিদ্যুৎ সংযোগ দিচ্ছে পল্লী বিদ্যুৎ বিভাগ।
জামানত জমাদানের মাত্র ৫ মিনিটেই গ্রাহদের বাড়িতে গিয়ে বিদ্যুতের মিটার ও তার সংযোগ দিয়ে ঘরে বাতি জ্বেলে দিচ্ছেন পল্লী বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী। এতে করে গ্রাহকদের এখন আর বিদ্যুৎ অফিসে যেতে হচ্ছে না। বিদ্যুৎ বিভাগের এমন উদ্যোগ্যটি এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
মঙ্গলবার উপজেলার বেশ কয়েকটি গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে, পল্লী বিদ্যুৎ বিভাগ মির্জাপুর ও গোড়াই জোনাল অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ভ্যানগাড়িতে ফেরি করে গ্রাহকদের বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ দিচ্ছেন। তাদের এই প্রকল্পের নাম দেওয়া হয়েছে ‘আলোর ফেরিওয়ালা’।
টাঙ্গাইল পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ মির্জাপুর ও গোড়াই জোনাল অফিস সূত্র জানায়, মির্জাপুর পৌরসভা ও মহেড়া, জামুর্কি, ফতেপুর, বানাইল, আনাইতারা, ওয়ার্শি, ভাদগ্রাম, ভাওড়া, বহুরিয়া, গোড়াই, লতিফপুর, তরফপুর, আজগানা ও বাঁশতৈল এই ১৪ ইউনিয়নের গ্রামে গ্রামে ‘আলোর ফেরিওয়ালা’ ভ্যানগাড়িতে করে ড্রফ তার ও মিটার নিয়ে গ্রাহকদের বাড়িতে গিয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হচ্ছে।
অফিস সূত্র জানায়, মির্জাপুর ও গোড়াই জোনাল অফিসের আওতায় মির্জাপুর উপজেলায় ৯৫ ভাগ গ্রাহক বিদ্যুৎ সংযোগ পেয়েছেন। দুটি জোনাল অফিসের মাধ্যমে এ পর্যন্ত গ্রাহক সংখ্যা এক লাখ ২৪ হাজার।
আরো পড়ুন: বাবুর্চি নেই ট্রাম্পের, রেস্টুরেন্টের খাবারে অতিথি আপ্যায়ন
টাঙ্গাইল পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ গোড়াই জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার(ডিজিএম) মো. সিদ্দিকুর রহমান এবং এজিএম (ওএনএন) মো. মঞ্জুরুল আলম জানান, এক সময় গ্রাহকদের বিভিন্ন সিন্ডিকেটের মাধ্যমে নানাভাবে হয়রানীর শিকার হতে হত। এখন সে চিত্র একবারেই পাল্টে গেছে। গ্রাহকদের বিভিন্ন পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে গিয়ে যাতে হয়রানীর শিকার হতে না হয় সে জন্য অফিসগুলো নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। গ্রাহকদের জন্য বসানো হয়েছে হেল্প ডেক্স কর্নার। গ্রাহকরা বিভিন্ন আবেদন, বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ, জামানত জমা ও উত্তোলনসহ যেকোনো সেবা এই হেল্প ডেক্স কর্নারের মাধ্যমে বিনামূল্যে সেবা গ্রহণ করতে পারছেন।
এ ব্যাপারে টাঙ্গাইল পল্লী বিদ্যুৎ মির্জাপুর জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মো. মোর্শেদুল ইসলামে বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. একাব্বর হোসেন, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মীর এনায়েত হোসেন মন্টু ও পৌরসভার মেয়র মো. সাহাদত হোসেন সুমনের আন্তরিক সহযোগিতা, পরামর্শ ও প্রচেষ্টায় মির্জাপুরে বিভিন্ন গ্রামে গ্রাহকদের শতভাগ বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার প্রক্রিয়া প্রায় শেষ পর্যায়ে।
এ ব্যাপারে সংসদ সদস্য মো. একাব্বর হোসেন বলেন, মির্জাপুরে প্রতিটি ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া এটা আমার নির্বাচনী প্রতিশ্রুত ছিল। সেই লক্ষ নিয়েই কাজ করা হচ্ছে। আগামী ৫-৬ মাসের মধ্যে মির্জাপুরকে শতভাগ বিদ্যুৎ ঘোষণা করা হবে।
ইত্তেফাক/জেডএইচ
