কুমিল্লায় নদী দখলকারীরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। অবৈধভাবে বালু, মাটি বিক্রির পর নদী দখল করে জলাশয় কেটে চাষ করছে মাছ। সঙ্গে জলাশয়ে সংযোগ দিয়ে বিদ্যুতের সাহায্যে পানি উত্তোলনসহ মাছ পাহারায় নির্মাণ করেছে পাকা স্থাপনা। কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার কাচিয়াতলী এলাকায় দেখা গেছে এই অবস্থা। গোমতীর প্রতিরক্ষা বাঁধের বাম তীরের অংশে বাঁধ ঘেঁষে এস্কেভেটরের সাহায্যে মাটি কেটে বিরাট একটি জলাশয় সৃষ্টি করা হয়। এরপর অগভীর নলকূপ বসিয়ে জলাশয়টি পানি পূর্ণ করে মাছ উত্পাদন শুরু করে। একই সময় এই জলাশয়টির মাছ পাহারার জন্য সেখানে পাকা স্থাপনাও তৈরি করা হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের দায়িত্বশীল একটি সূত্র থেকে জানা যায়, মূল প্রতিরক্ষা বাঁধ ঘেঁষে জলাশয় নির্মাণের কারণে বাঁধটির ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়াও সেখানে পাকা স্থাপনা ও বৈদ্যুতিক সংযোগ সম্পূর্ণ অবৈধ। একজন মাছচাষি বলেন, আমি এই জায়গার মালিকপক্ষের কাছ থেকে ভাড়া নিয়েছি। নদী তো সরকারের—পালটা প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, ‘সেটা আমি জানি না।’ তিনি পাশের একটি ইটভাটা থেকে বিদ্যুত্ সংযোগ এনেছেন। এভাবে নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধের ভিতর অবাধে যত্রতত্র মাটি কেটে পুকুর বা জলাশয় করার কারণে জেলার অন্যতম শস্যভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত গোমতী পাড়ের বহু কৃষক চাষাবাদ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। পরিশেষে, অবৈধ দখলদারদের হাত থেকে নদী, নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ রক্ষার জন্য দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক
