বগুড়ায় বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তিতে আগ্রহ বাড়ছে মানুষের

আপডেট : ১০ নভেম্বর ২০২০, ২২:০৭

বগুড়া জেলা লিগ্যাল এইড কার্যালয়ে প্রায় ৯০ শতাংশ অভিযোগই আসে পারিবারিক কলহের। এখানে দুই পক্ষের সঙ্গে আদালতের দীর্ঘসূত্রতা ছাড়াই সমস্যার সমাধান করা হয়। এতে ভোগান্তি কমছে মানুষের। ক্রমাগত জনপ্রিয় হচ্ছে লিগ্যাল এইডের সমঝোতায় বিচার প্রক্রিয়া, যাকে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি বলা হয়। সাড়ে চার বছরে জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির মাধ্যমে বিকল্প পন্থায় আপস-মীমাংসা সভার মাধ্যমে ৪০০ অভিযোগ নিষ্পত্তি করা হয়েছে। এ সময় মোহরানা ও খোরপোশ এবং অন্যান্য দাবিদারের মোট ১ কোটি ৬৪ লক্ষাধিক টাকা আদায় করে দাবিদারদের প্রদান করা হয়েছে।

বগুড়া জেলা লিগ্যাল এইড বলছে, অসচ্ছল ও অসহায় নারী-পুরুকে আইনগত সহায়তা দেওয়াই সংস্থাটির কাজ। এখানে অভিযোগকারীদের প্রায় ৯০ শতাংশ পারিবারিক সমস্যায় সাহায্য নিতে আসেন। এসব সমস্যা নিরসনে এডিআর পদ্ধতি সবচেয়ে কার্যকর। এতে অসহায় ব্যক্তিরা যেমন ভোগান্তি ছাড়াই তাদের সমাধান পাচ্ছেন, তেমনি আদালতের মামলাজটও কমছে। আদালতের বাইরে বিকল্প বিরোধ নিরসনে এই কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থা। জেলায় সংস্থাটির আওতায় একটি করে লিগ্যাল এইড শাখা রয়েছে। এর দায়িত্বে রয়েছেন একজন জ্যেষ্ঠ সহকারী জজ।

বগুড়া লিগ্যাল এইড কর্মকর্তা জ্যেষ্ঠ সহকারী জজ মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘সাধারণত আর্থিক সার্মথ্য নেই এমন যে কোন ব্যক্তিকে আমরা সেবা দিয়ে থাকি। অভিযোগকারীর বেশির ভাগ পারিবারিক সমস্যা নিয়ে আসেন। আর কিছু অভিযোগ আসে জমিজমাসংক্রান্ত। এ ধরনের অভিযোগ পুরুষেরাও করে থাকেন। তাদের সমস্যা শুনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়। আর অভিযোগকারীর যাবতীয় খরচ বহন করে সরকার।’

বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলায় ২৪ বছর স্বামীর ঘর-সংসার করে এসেছেন এক গৃহবধূ। ঐ ঘরে তাদের এক কন্যাসন্তান জন্ম নেয়। সম্প্রতি মেয়েটি নিজেই পছন্দ করে বিয়ে করে। আর ঐ বিয়ের সমস্ত দায় মায়ের ওপর দিয়ে বছরখানেক আগে মেয়ের বাবা গৃহবধূকে তালাক প্রদান করে নতুন করে আরো একটি বিয়ে করেন। প্রায় দুই যুগ স্বামীর সংসার করাকালে সংসারের অসচ্ছলতার কারণে গৃহবধূ একটি মুদির দোকান পরিচালনা করে সংসারের ঘানি টেনে আসার পরেও তার ভাগ্যে জোটে স্বামীর তালাকের খড়্গ। অসহায় গৃহবধূ কোনো উপায় না পেয়ে স্বামীর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেন। আর ঐ মামলা আদালত থেকে বিরোধ নিষ্পত্তির উদ্দেশ্যে বগুড়া জেলা লিগ্যাল এইড কার্যালয়ে স্থানান্তর করা হয়। জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার উভয় পক্ষকে নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি প্রায় নিষ্পত্তির পথে।

জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার (সিনিয়র সহকারী জজ) শরিফুল ইসলাম জানান, ২০১৭ সাল থেকে চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত সাড়ে চার বছরে এ কার্যালয়ে আইনি সহায়তার মাধ্যমে মামলা পরিচালনার জন্য মোট ৪ হাজার ২৭৫টি আবেদন পাওয়া যায়। এর মধ্যে ২ হাজার ৭২৩ জন নারী ও ১ হাজার ৫৫২ জন পুরুষ আবেদন করেন। বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য আবেদন পাওয়া যায় ৩৯৮টি। বিভিন্ন আদালত থেকে আপস-মীমাংসার জন্য পাঠানো হয় ৪৩৩টি মামলা। এর মধ্যে ২২৭টি মামলা আলোচনার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা হয়েছে। আর আদালতে যাওয়ার আগেই বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি করা হয়েছে ১৭০টি। এ সময় বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তিতে মোহরানা, খোরপোষ ও অন্যান্য বিষয়ে দাবিকৃত ১ কোটি ৬৪ লাখ ৭৬ হাজার ৮২৮ টাকা আদায় করে সংশ্লিষ্ট দাবিদারদের প্রদান করা হয়েছে।