করোনাকালে স্বাস্থ্য খাতে দুর্নীতির মহোত্সব হয়েছে :টিআইবি

আপডেট : ১০ নভেম্বর ২০২০, ২২:০৮
করোনা সংকটকালে স্বাস্থ্য খাতে গভীরভাবে বিস্তৃত দুর্নীতি উন্মোচিত হওয়ার পাশাপাশি এই সংকটকে কেন্দ্র করে দুর্নীতির নতুন সুযোগও সৃষ্টি হয়েছে। দুর্নীতিবাজ, দুর্নীতির সুবিধাভোগী এবং দুর্নীতিতে নিমজ্জিত ব্যক্তিবর্গ দুর্নীতির মহোত্সবে নেমেছে। এছাড়া সরকারের সংকোচনমূলক নীতি প্রয়োগের (সেবা ও নমুনা পরীক্ষা হ্রাস) মাধ্যমে শনাক্তের সংখ্যা হ্রাস হওয়াকে ‘করোনা নিয়ন্ত্রণ’ হিসেবে দাবি এবং রাজনৈতিক অর্জন হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। করোনা সংকট মোকাবিলায় সুশাসনের চ্যালেঞ্জ—দ্বিতীয় পর্ব’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষ্যে গতকাল মঙ্গলবার এক ভার্চুয়াল সাংবাদিক সম্মেলনে এ কথা জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। এ সময় সংকট মোকাবিলায় সুশাসনের চ্যালেঞ্জ থেকে উত্তরণে ১৫ দফা সুপারিশ প্রদান করে সংস্থাটি। সাংবাদিক সম্মেলনে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান, নির্বাহী ব্যবস্থাপনার উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. সুমাইয়া খায়ের প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন গবেষণা ও পলিসি বিভাগের ডেপুটি প্রোগ্রাম ম্যানেজার মো. জুলকারনাইন। বিভিন্ন সময় দেশে কোভিড চিকিত্সার ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে দাবি করা হয়। কিন্তু গবেষণায় দেখা যায়, এখনো বাংলাদেশের জেলা পর্যায়ের চিকিত্সাব্যবস্থায় সক্ষমতার ঘাটতি রয়ে গেছে। গবেষণায় নমুনা পরীক্ষায়ও দুর্নীতির চিত্র উঠে এসেছে। যাচাই না করার ফলে লাইসেন্সবিহীন এবং ভুয়া হাসপাতাল ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর করোনা পরীক্ষা করার চুক্তি সম্পাদন করেছে। এমন একটি প্রতিষ্ঠান দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে নমুনা সংগ্রহ করে কোনো পরীক্ষা না করেই ১৫ হাজার ৪৬০ জনকে করোনা পরীক্ষার ভুয়া রিপোর্ট দেয়। এছাড়াও জরিপে সেবাগ্রহীতাদের ৯ দশমিক ৯ নমুনা পরীক্ষায় ভুল প্রতিবেদন পাচ্ছেন। গবেষণায় জুন মাস পরবর্তী সময়েও করোনা সংকট মোকাবিলায় ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি দেখা গেছে। জরুরি পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা ২০০৮ লঙ্ঘন করে বিভিন্ন প্রকল্পে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতি ব্যবহার করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। অনেক ক্ষেত্রে মৌখিক আদেশে ক্রয় করা হয়েছে এবং কোনো ক্রয়ে ই-জিপি মাধ্যম ব্যবহার করা হয়নি। গবেষণায় সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে অনিয়ম-দুর্নীতি লক্ষ্য করা গেছে। জরিপে নগদ সহায়তা উপকারভোগীদের ১২ শতাংশ তালিকাভুক্ত হতে এবং নগদ সহায়তায় উপকারভোগীদের ৫৬ শতাংশ সহায়তা পেতে অনিয়ম ও দুর্নীতির শিকার হয়েছিল। ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, করোনা ভাইরাসের এই সংকট এবং সংকট মোকাবিলার ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য খাত যে চাপের মধ্যে পড়েছে এ দুইয়ের সুযোগ নিয়ে দুর্নীতিবাজ, দুর্নীতির সুবিধাভোগী এবং দুর্নীতিতে নিমজ্জিত ব্যক্তিবর্গ দুর্নীতির মহোত্সবে নেমেছে। তিনি করোনা ভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলায় শঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, এখনো সুনির্দিষ্ট নীতিমালা বা কৌশল দেখতে পাই না।