এই সময়ের ছড়া
মোহাম্মদ কামরুজ্জামান
আয় রে মৃগেল আয় বোয়াল জাল ফেলেছি খেপলা জাল
পাবদা পাঙাশ কারফ্যু আড় চিতল কাতল শৌল গজার
তেলাপিয়া কালবাউশ বড় মাছে খুব হাউস
রুই না পেলে বউ বেজার তার বঠিতে ভীষণ ধার
দাড়কিনা তার চক্ষুশূল টেংরা চেলায় হুলুস্থূল
আর যেগুলো দেয় কেতা কানকো দিয়ে দেয় ব্যথা
আর গায়ে যার আঁশ ভরা পিছলা গা-না দেয় ধরা
লেজ নাড়ায় আর দেয় বাড়ি ওদের সাথে ওর আড়ি
তাই বলে মাছ পালাস না লাফ দিয়ে আর জ্বালাস না
রুই না আসিস পুঁটি আয় জাল বিছালাম যা তলায়
গুতুম রানি ফুল চেলা খোকশা মলা আর ঢেলা
নেফতানি কৈ টাটকেনি চিংড়ি টাকি আর মেনি
চান্দা ফ্যাসা খুরচোনা শিং খলিশা কানপোনা
ভোল বড়ালি পাথরচাটা খরশুলা চ্যাং খয়রা বাটা
জাত পুঁটি গায় দুই ফোঁটা আর কাকিলা এক ঠোঁটা—
মুখ বড় বুক চাপা রে কুটতে আমার মা পারে
মাছ কুটে তার গেছে চোখ আছে আরো কোটার লোক
অন্তু আমার ছোট্ট মা শান্ত বেজায় দুষ্টু না
ভদ্র কোনো মাছ পেলে মাছ কোটে সে ক্লাস ফেলে
আয় ভেদা মাছ বেলে মাছ পাব কোথায় গেলে মাছ?
বৃষ্টি হলো ভাদ্দরে বান এল তার হাত ধরে
জল নামে না, ওঠে গাঁয় এই বুঝি ঘর উঠোন যায়
আশ্বিনে সেই গেল বান সঙ্গে নিল মাঠের ধান,
বিল শুকালে মাছ পাব মাছ খাব আর মাছ খাব
চচ্চড়ি আর ঝোল করে শুঁটকি ও সিদল করে
বাজল শিঙা কার্তিকে জাল ক্যাটা কোঁচ চারদিকে
হাবুডুবু ঘোলা জল পায়ের নিচে কী খলবল!
কী মাছ ওটা? কে দেয় লাফ? ও রে বাবা, ঢোঁড়া সাপ!
মাছ মিলুক আর না-ই মিলুক ধরতে নামি—তাতেই সুখ
মাছ চলে যায় পলো আন ঝিলপাড়ে বউ-পোলাপান
ফসকে গেল হাতের মুঠ মাছ বড়টাই দিল ছুট
পেটটা যেমন তেমনি ঘাড় ওটাই ছিল বাঘা আড়,
মাছের কাছে কুপোকাত অন্তু মায়ের ছয়টা দাঁত।
[সংবাদসূত্র: গাইবান্ধায় শুরু হয়েছে দলবেঁধে মাছ শিকার ‘বৈদ’—দৈনিক ইত্তেফাক (২৭ অক্টোবর ২০২০)]
