চার মাসে এডিপি বাস্তবায়ন হয়েছে ১২ দশমিক ৭৯ শতাংশ

আপডেট : ১১ নভেম্বর ২০২০, ২১:১৩

শুধু অক্টোবরে খরচ হয়েছে এডিপির ১০ হাজার ১৫১ কোটি টাকা

ইত্তেফাক রিপোর্ট

বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নে গতি ফিরতে শুরু করেছে। চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত এই চার মাসে ১২ দশমিক ৭৯ শতাংশ এডিপি বাস্তবায়ন হয়েছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ে বাস্তবায়ন হার ছিল ১৪ দশমিক ২৫ শতাংশ। গত অর্থবছরের তুলনায় পিছিয়ে থাকলেও করোনার প্রভাবে স্থবির হয়ে থাকা কাজে গতি ফিরেছে। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি)-এর হালনাগাদ তথ্যে দেখা যায়, শুধু অক্টোবরে খরচ হয়েছে এডিপির ৪ দশমিক ৭৩ শতাংশ অর্থ বা ১০ হাজার ১৫১ কোটি টাকা। চার মাসের হিসাবে খরচ হয়েছে ২৭ হাজার ৪৫৩ কোটি টাকা। আগের অর্থবছরের একই সময়ে খরচ হয়েছিল ৩০ হাজার ৬৫২ কোটি টাকা।

উল্লেখ্য, ১ জুলাই শুরু হওয়া ২০২০-২১ অর্থবছরের এডিপির আকার ২ লাখ ১৪ হাজার ৬১১ কোটি টাকা। করোনার প্রকোপ শুরুর পর থেকে কম গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে অর্থছাড় স্থগিত ছিল। সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার ছাড়া অন্য প্রকল্পে নিয়মিত খরচের বাইরে অর্থছাড় স্থগিত ছিল। কিন্তু সম্প্রতি প্রকল্পের কাজে গতি বাড়াতে এ অবস্থান থেকে সরে এসেছে সরকার। অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্টরা জানান, নিম্ন অগ্রাধিকার ৪৬০ প্রকল্পের অর্থায়ন স্থগিতের নিষেধাজ্ঞা থাকছে না। পাশাপাশি মধ্যমানের প্রকল্প থেকেও শর্ত তুলে নেওয়া হয়েছে। এখন থেকে সব ধরনের উন্নয়ন প্রকল্পে সরকারি অংশের (জিওবি) ৭৫ শতাংশ অর্থ ব্যয় করা যাবে। আর ১০০ শতাংশ ব্যয় করা যাবে প্রকল্পের বিদেশি সহায়তা। সম্প্রতি এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। ঐ সিদ্ধান্তের আলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে।

চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসে এডিপি বাস্তবায়নের চিত্রে দেখা যায়, টাকার অঙ্কে সর্বোচ্চ বরাদ্দ প্রাপ্ত স্থানীয় সরকার বিভাগ, খরচ করতে পেরেছে বরাদ্দের ১২ দশমিক ৬৭ শতাংশ অর্থ। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বরাদ্দ পাওয়া বিদ্যুত্ বিভাগ খরচ করতে পেরেছে ১৬ দশমিক ৬৯ শতাংশ অর্থ। সর্বোচ্চ বরাদ্দপ্রাপ্ত অন্য মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মধ্যে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ ১২ দশমিক ১৯ শতাংশ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় ১০ দশমিক ২৮ শতাংশ, রেলপথ মন্ত্রণালয় ৮ দশমিক ৯৫ শতাংশ, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ ২০ দশমিক ৭০ শতাংশ, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ ৮ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ২৫ দশমিক ১৫ শতাংশ, সেতু বিভাগ ১১ দশমিক ৬৮ শতাংশ খরচ করতে পেরেছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলার মধ্য দিয়ে দেশের অর্থনীতির গতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরছে। রাজস্ব আদায়, আমদানি-রপ্তানি ও রেমিট্যান্স পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। এসব দিক বিবেচনা করেই উন্নয়ন প্রকল্পে অর্থ ছাড়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়।