পারাপারে সমস্যা
নেত্রকোনা প্রতিনিধি
নেত্রকোনা, পূর্বধলা এবং দুর্গাপুর উপজেলার সীমান্ত সড়কের মধ্যখান দিয়ে প্রবাহিত কংস নদের মোহনায় ডেউটুকুনে নদী পারাপারের স্টিল ফেরিটি পানি কম থাকায় এখন অচল। ছোট একটি নৌকা দিয়ে মানুষ নদী পারাপার হচ্ছে। মোটরসাইকেল ও সিএনজি অটোরিকশাও নৌকা দিয়ে পার হচ্ছে। ফলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা যে কোনো সময় ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। নেত্রকোনা জেলা সদরের সঙ্গে দুর্গাপুরের সড়ক পথে যোগাযোগের জন্য পূর্বধলা পর্যন্ত ১৬ কিলোমিটার একটি সড়ক থাকলেও তা গত কয়েক বছর যাবত্ চলাচলের অযোগ্য হওয়ায় এই সড়কটি এখন নতুন করে নির্মাণ করা হচ্ছে। বিকল্প হিসেবে নেত্রকোনা শহরের চানখাঁর মোড় হয়ে জামধলা বাজার দিয়ে লোকজন দুর্গাপুর যাতায়াত করছেন। কিন্তু ডেউটুকুনে কংস নদের ওপর সেতু না থাকায় তাদের নৌকা দিয়ে পারাপার হতে হচ্ছে। ফলে যেখানে এক ঘণ্টা লাগার কথা সেখানে দুই ঘণ্টা লাগছে দুর্গাপুর যেতে। জনগণের দাবির মুখে সড়ক ও জনপথ বিভাগ একটি স্টিল ফেরি এখানে দিলেও বর্ষা মৌসুমে ফেরিটি চলতে পারে। কিন্তু শুষ্ক মৌসুমে নদীতে পানি না থাকায় ফেরি আর চলতে পারে না। কোনোমতে ফেরি দুই মাস চলতে পারে। এখন ফেরি বন্ধ। আর এ কারণে নৌকা দিয়ে সবাইকে নদী পার হতে হচ্ছে।
মুক্তিযোদ্ধা হায়দার জাহান চৌধুরী বলেন, এই সড়কটি সীমান্ত সড়ক হওয়ায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই দ্রুত কংস নদের ওপরে সেতু নির্মাণ প্রয়োজন এবং এটা এখন সময়ের দাবি। পূর্বধলার এমপি ওয়ারেসাত হোসেন বেলাল বীর প্রতীক এবং দুর্গাপুরের এমপি মানু মজুমদারের সঙ্গে কথা বললে তারা বলেন, ডেউটুকুনে কংস নদের ওপর পাকা সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সড়ক ও জনপথ বিভাগ সেতু নির্মাণ করবে। এছাড়া নেত্রকোনা পূর্বধলা সড়ক এবং নেত্রকোনা দুর্গাপুর ভায়া ধলামূলগাঁও সড়ক নির্মাণকাজ শেষ হলে চলাচলে আর কোনো সমস্যা হবে না বলেও তারা উল্লেখ করেন। এদিকে নেত্রকোনা সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী হামিদুল ইসলাম বলেন, ডেউটুকুনে কংস নদীর ওপর পাকা সেতু নির্মাণের বরাদ্দ চাহিদাপত্র ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট পাঠানো হয়েছে। টাকার বরাদ্দ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সীমান্ত সড়কের এই নদীর ওপর দ্রুত পাকা সেতু নির্মাণকাজে হাত দেওয়া হবে।
