চট্টগ্রামের লোহাগাড়ার প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা সাংবাদিক জামাল উদ্দিনের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়েছে। মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বুধবার পারিবারিকভাবে খতমে কোরআন, মিলাদ মাহফিল ও কবর জিয়ারত করা হয়। গত ২০১৯ সালের ১১ নভেম্বর সকাল ৮টায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান সাংবাদিক জামাল উদ্দিন। পরে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাকে দাফন করা হয়। জামাল উদ্দিন ডায়াবেটিস, হৃদরোগসহ নানা রোগে ভুগছিলেন। জীবনের শেষ প্রায় দুই বছর তিনি দুই চোখের জ্যোতি সম্পূর্ণ হারিয়ে অন্ধ জীবন যাপন করেছেন।
মৃত্যু আগ পর্যন্ত জামাল উদ্দিন চট্টগ্রাম থেকে প্রকাশিত দৈনিক আজাদি পত্রিকার লোহাগাড়া প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। জামাল উদ্দিন বাংলাদেশের জাতীয় বার্তা সংস্থা বাসসের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও লোহাগাড়া প্রেসক্লাবের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি বগুড়া ফটোগ্রাফিক সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ও বগুড়া প্রেসক্লাবের কার্যনির্বাহী সদস্য, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন।
কর্মজীবন
জামাল উদ্দিন ১৯৮১ সাল থেকে ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত বগুড়া থেকে প্রকাশিত দৈনিক উত্তরাঞ্চল পত্রিকায় স্টাফ ফটোগ্রাফার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এছাড়া তখন তিনি বগুড়ার স্টুডিও’র ব্যবসা করতেন। পাশাপাশি জামাল উদ্দিন সাপ্তাহিক চিত্রালী, সচিত্র সন্ধানী ও দৈনিক রূপালীতে নিয়মিত লিখতেন। তিনি ১৯৯১ সাল থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত অর্থাৎ মৃত্যুর আগ পর্যন্ত দৈনিক আজাদি পত্রিকায় কর্মরত ছিলেন। বিভিন্ন সময় ফটোগ্রাফিতে তিনি রাজশাহী বিভাগীয় পুরস্কার, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পুরস্কার লাভ করেছেন।
১৯৮৮ সালে বাংলাদেশ ফটোগ্রাফিক সোসাইটি (বিএফপি) আয়োজিত ঢাকার জার্মান কালচারাল ইন্সটিটিউটে প্রোট্রেট ফটোগ্রাফিতে মূল্যবান অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ সম্মাননা ও সার্টিফিকেট অর্জন করেছেন।
একই বছরে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডঐঙ) কর্তৃক ৭ এপ্রিল বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষে জেনেভাতে আয়োজিত আন্তর্জাতিক ফটো কনটেস্টে তার ছবি স্থান লাভ করে এবং মূল্যবান অবদানের জন্য সার্টিফিকেট লাভ করেন ও তার দুটি ছবি সেই প্রদর্শনীতে স্থান পায়।
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্য ২০১৩ সালের ১৬ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন কর্তৃক সম্মাননা স্মারক লাভ করেন। ১৯৯৬ সালে মহান স্বাধীনতা সংগ্রামে গৌরবময় অবদানের জন্য মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলা পরিষদ, চট্টগ্রাম কর্তৃক প্রদত্ত বিজয় পদক লাভ করেন।
ব্যক্তিগত জীবন
জামাল উদ্দিনের জন্ম চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার আমতলি ইয়াছিন পাড়া গ্রামে। বাবা আব্দুছ সাত্তার, মা তফুর বেগম। তিনি অমিত হাসান জীবন নামে এক সন্তানের জনক। স্ত্রী নাজনীন বেগম।
ব্যক্তি জীবনে তিনি কথা সাহিত্যিক রোমেনা আফাজ, দৈনিক উত্তরাঞ্চল সম্পাদক দুর্গাদাস মুখার্জী, চারণ সাংবাদিক মোনাজাত উদ্দিন, সাংবাদিক দীপঙ্কর চক্রবর্তী, সাহিত্যিক খন্দকার মোহাম্মাদ ইলিয়াস, কবি রুস্তম আলী কর্নপুরী, আন্দামান ফেরত পাঁচবিবির বিখ্যাত কমিউনিস্ট নেতা ডা. আবদুল কাদেরসহ অনেকের সান্নিধ্য লাভ করেছিলেন।
ইত্তেফাক/এসি
