আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম বলেছেন, বঙ্গবন্ধু মানে বাংলাদেশ, বঙ্গবন্ধু মানে স্বাধীনতা। বঙ্গবন্ধু আমাদের আত্মপরিচয়ের ঠিকানা। যতদিন বাংলাদেশ থাকবে; ততদিন বঙ্গবন্ধু বাংলার আকাশ, বাতাস, পানি ও মানুষের হূদয়ের মণিকোঠায় চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন। ব্যক্তি বঙ্গবন্ধুর মৃত্যু হতে পারে, কিন্তু তার কর্মের এবং আদর্শের মৃত্যু কখনো বাংলাদেশে হবে না। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ‘মুজিববর্ষ’ উদ্যাপন উপলক্ষ্যে জাতীয় সংসদের বিশেষ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আনা প্রস্তাবের ওপর গতকাল বুধবার আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি একথা বলেন।
শেখ সেলিম বলেন, জীবিত বঙ্গবন্ধুর চেয়ে মৃত বঙ্গবন্ধু অনেক বেশি শক্তিশালী। বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে ইতিহাস বিকৃতি শুরু করল খুনিরা। বঙ্গবন্ধুর নাম-নিশানা মুছে ফেলার চেষ্টা করল ওরা। বিজয় দিবস, স্বাধীনতা দিবসে বঙ্গবন্ধুর নাম পর্যন্ত উচ্চারণ করত না। ইতিহাসকে কেউ চাপা দিয়ে রাখতে পারে না, ইতিহাস নিজস্ব গতিতে চলে।
তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। সেখানে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে খুনিরা ইনডেমনিটি দিয়েছিল। মোস্তাক ইনডেমনিটি দিল, জিয়া সেটাকে পার্লামেন্টে পাশ করে নিল। ইনডেমনিটি দিল নিজেদের রক্ষা করার জন্য। জিয়া-মোস্তাক বঙ্গবন্ধুর হত্যার সঙ্গে জড়িত। তারা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে ইতিহাস বিকৃতি শুরু করে।
আওয়ামী লীগ দলীয় জ্যেষ্ঠ এই সংসদ সদস্য বলেন, ১৯৯৯ সালে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে যখন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় তখন রাষ্ট্রভাষা বাংলাকে আন্তর্জাতিক ভাষা করার জন্য জাতিসংঘের কাছে প্রস্তাব দেওয়া হয়। জাতিসংঘ ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেয় এবং ২০০০ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি বিশ্বের ১৯১টি দেশে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হয়।
তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান এবং অন্যরা ক্ষমতায় ছিল, তারা ক্ষমতায় এসে স্বাধীনতার স্লোগান জয় বাংলাকে বাদ দিয়ে জিন্দাবাদ আরম্ভ করল। বাংলাদেশ বেতারকে রেডিও বাংলাদেশ করল। পাকিস্তানিদের খুশি করতে যে—আমরা তোমাদের সঙ্গে আছি; দেখি আমরা বাংলাদেশকে তোমাদের সঙ্গে একত্রিত করতে পারি কি না। এমনকি জাতীয় সংগীতও পরিবর্তন করার চেষ্টা হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯৯৫ সালে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট করার কাজ শুরু করেছিলেন, খুনি চক্র খালেদা জিয়ারা ক্ষমতায় এসে ওটাকেও বন্ধ করে দিল। তারপর এবার ক্ষমতায় এসে ২০১৫ সালে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট উদ্বোধন করেন। বিশ্বে আর কোনো দেশ ভাষার জন্য রক্ত দিয়েছে বলে আমার জানা নেই।
শেখ সেলিম আরো বলেন, বঙ্গবন্ধু ৪ হাজার ৬৮২ দিন কারাগারে ছিলেন। বঙ্গবন্ধু নিজের জীবনের চেয়ে বাংলাকে ও বাঙালিকে বেশি ভালোবাসতেন। যখনই তিনি মৃত্যুর মুখোমুখি হয়েছেন তখনই তিনি বাংলার মাটি ও মানুষের কথা চিন্তা করেছেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানে বন্দি থাকার সময় জেলের মধ্যে তার জন্য কবর খোঁড়া হয়েছিল। বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, মৃত্যুকে আমি ভয় পাই না। তোমরা শুধু আমার লাশ বাংলার মাটিতে পৌঁছে দিও।
তিনি বলেন, এদেশের মানুষের অধিকার আদায়ে বঙ্গবন্ধু ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে স্বাধীনতা সংগ্রাম; প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে তিনি অত্যাচার-নির্যাতন, জেল-জুলুম সহ্য করেছেন। ছয় দফা দেওয়ার পর তিনি যেখানে বক্তৃতা দিয়েছেন সেখানেই গ্রেফতার হয়েছেন। বঙ্গবন্ধু ৭ই মার্চের ভাষণে স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের পরিপূর্ণ নির্দেশনা দেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী বঙ্গবন্ধুকে সতর্ক করেছিলেন। বঙ্গবন্ধু ইন্দিরা গান্ধীকে বলেছিলেন—আমার কিছু হবে না, আপনার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হচ্ছে। তখন ইন্দিরা গান্ধীর বিরুদ্ধে ভারতে ব্যাপক আন্দোলন চলছিল। এক দিন ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের বাড়িতে ফণিভূষণ মজুমদার বঙ্গবন্ধুকে সতর্ক করে বলেছিলেন আপনার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হচ্ছে, এটা কি আপনি জানেন? তখন বঙ্গবন্ধু ফণিভূষণ মজুমদারের কাঁধে হাত দিয়ে বলেছিলেন—দাদা আমার কিছু হবে না। আমি চিলির আয়েন্দের (সালভাদর আয়েন্দে) মতো হব না।
