বিশ্ব নিউমোনিয়া দিবস আজ

দেশে প্রতিদিন ৬৭ শিশুর মৃত্যু হয় নিউমোনিয়ায়

আপডেট : ১২ নভেম্বর ২০২০, ০০:২০

দেশে প্রতি ঘণ্টায় নিউমোনিয়ায় মারা যায় তিনটি শিশু। যাদের বয়স পাঁচ বছরের নিচে। প্রতিদিন মারা যায় ৬৭টি শিশু এবং প্রতি বছর মারা যায় ২৪ হাজার ৩০০ শিশু। যা দেশে মোট শিশু মৃত্যুর ১৮ শতাংশ। দেশে পাঁচ বছরের কম বয়সি শিশুমৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ এই নিউমোনিয়া। গতকাল বুধবার বিশ্ব নিউমোনিয়া দিবস উপলক্ষ্যে আইসিডিডিআর,বিতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এসব তথ্য জানানো হয়। ড্যাটা ফর ইম্প্যাক্ট, আইসিডিডিআর,বি এবং ইউএসএআইডি যৌথভাবে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আইডিডিআর,বির সহযোগী বিজ্ঞানী ড. আহমেদ এহসানুর রহমান। নিউমোনিয়া নিয়ে বিষদ আলোচনা করেন আইসিডিডিআর,বির সিনিয়র পরিচালক ড. শামস ই আরেফিন, শিশু বিশেষজ্ঞ প্রফেসর ডা. মো. রুহুল আমিন, চাইল্ড হার্ট ট্রাস্টের নির্বাহী পরিচালক প্রফেসর ড. সমির কুমার সাহা, আইসিডিডিআর,বির সিনিয়র বিজ্ঞানী ড. মো. যোবায়ের চিশতী। স্বাগত বক্তব্য দেন আইডিডিআর,বির গবেষণা প্রধান ড. কামরুন নাহার এবং ইউএসএআইডির সিনিয়র উপদেষ্টা ড. কান্তা জামিল।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, ভাইরাস ও ব্যাক্টেরিয়ার আক্রমণে শিশুদের নিউমোনিয়া হয়ে থাকে। করোনা ভাইরাসও নিউমোনিয়ার জন্য দায়ী। তবে যেসব ভাইরাসের কারণে শিশুদের নিউমোনিয়া হয়ে থাকে, তার ৫০ ভাগই অচেনা। এই রোগে মৃত্যুর অন্যতম কারণ আক্রান্ত হওয়ার পর শিশুকে দেরিতে হাসপাতালে আনা। অপুষ্টিতে আক্রান্ত শিশুদের নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি। এছাড়া হাসপাতাল থেকে ফিরিয়ে দেওয়া, এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে যাওয়ায় কারণে বছরে বিপুলসংখ্যক শিশুর মৃত্যু হয়। ১ থেকে ১১ মাস বয়সি শিশুদের নিউমোনিয়ায় আক্রান্তের হার সবচেয়ে বেশি।

বিশ্বে কিছুদিন আগেও বছরে গড়ে এক কোটি শিশুর মৃত্যু হতো রোগটিতে। বর্তমানে এই সংখ্যা কিছুটা কমে ৮৮ লাখে নেমেছে। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন এই সংখ্যা আবার বাড়বে। 

প্রফেসর ড. মো. রুহুল আমিন নিউমোনিয়ায় শিশু মৃত্যুহার হ্রাসে ছয় মাস বয়স পর্যন্ত শুধু মায়ের দুধ খাওয়ানো এবং দুই বছর পর্যন্ত মায়ের দুধ খাওয়ানো চালিয়ে যাওয়া, ছয় মাসের পর থেকে ঘরে তৈরি পুষ্টিকর খাবার খাওয়ানো, পরিবেশ দূষণ হ্রাস এবং শ্বাসকষ্ট হলে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

ড. মোহাম্মদ যোবায়ের চিশতী হাসপাতালে অক্সিজেন স্বল্পতা দূর করার আহ্বান জানান।

ড. আহমেদ এহসানুর রহমান বলেন, ডেমোগ্রাফিক অ্যান্ড হেলথ সার্ভে অনুযায়ী বাংলাদেশে মাত্র ৫ শতাংশ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিউমোনিয়ার পূর্ণাঙ্গ চিকিত্সা আছে।