নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াত্ আইভী ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে হিন্দুদের ‘দেবোত্তর’ সম্পত্তি দখলের অভিযোগে মানববন্ধন করেছে পূজা উদ্যাপন ও হিন্দু খ্রিষ্টান বৌদ্ধ ঐক্য পরিষদ। তবে এমন অভিযোগ অস্বীকার করে নাসিক মেয়র আইভী বলেছেন, জিউস পুকুরের মালিকানার সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই। আগামী সিটি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের একটি অংশ এই মানববন্ধন। গতকাল বুধবার বিকালে দেশব্যাপী সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন বন্ধ, দখলকৃত দেবোত্তর সম্পত্তি উদ্ধার, মন্দির, মঠ, গীর্জা, প্যাগোডায় হামলা বন্ধসহ বিভিন্ন দাবি সংবলিত ব্যানার নিয়ে পূজা উদ্যাপন ও ঐক্য পরিষদের নেতাকর্মীরা অবস্থান নেন। নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচির ব্যানার বদলে যায় কিছুক্ষণ পরেই। পরবর্তীতে নাসিক মেয়র আইভী ও তার পরিবারের লোকজন জিউস পুকুর দখল করেছেন এমন অভিযোগ সংবলিত ব্যানারে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়। বিকালে শুরু হওয়া এ কর্মসূচি শেষ হয় ৪টার দিকে। অবস্থান কর্মসূচি শেষে প্রধানমন্ত্রী বরাবর একটি স্মারকলিপি জেলা প্রশাসকের কাছে জমা দেন নেতৃবৃন্দ। কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাবেক রাষ্ট্রদূত অধ্যাপক ড. নিমচন্দ্র ভৌমিক। প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পূজা উদ্যাপন পরিষদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নির্মল চ্যাটার্জি। ড. নিমচন্দ্র ভৌমিক বলেন, সর্বজনীন, দেবোত্তর, ওয়াক্ফ সম্পত্তির মালিক হচ্ছে জনগণ। কাজেই এই সম্পত্তি নিয়ে প্রভাব বিস্তার করা অন্যায়। যারা করছেন তাদের বিরুদ্ধে সারা দেশেই আমাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। আওয়ামী লীগ নেতা ও ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির জেলা সভাপতি চন্দন শীল বলেন, ‘জিউস পুকুর লক্ষ্মীনারায়ণ মন্দিরের সম্পত্তি। এটা দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে। ধরাকে সরা জ্ঞান করবেন না। দখলের নামে সংখ্যালঘু সম্প্র্রদায়কে হুমকি দিবেন না। মেয়র আরো বলেন, কে বা কারা সুবিধা নেওয়ার জন্য আমার বিরুদ্ধে সাম্প্র্রদায়িক শক্তিকে উসকে দিতে চাচ্ছে। ৩৬ বছর আগেও আমার বাবার সঙ্গে তারা এই ধরনের খেলায় মেতেছিল।
