জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে সংসদে কয়েকটি ঘটনার স্মৃতিচারণা করলেন আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ‘মুজিববর্ষ’ উদ্যাপন উপলক্ষ্যে জাতীয় সংসদের বিশেষ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আনা প্রস্তাবের ওপর গতকাল বুধবার আলোচনায় অংশ নিয়ে স্মৃতিচারণ করেন তিনি। বঙ্গবন্ধুর আইনজীবী ও বন্ধু প্রয়াত সিরাজুল হকের ছেলে আনিসুল হক ছাত্রজীবনে তাদের বাড়িতে বঙ্গবন্ধুর যাওয়ার ঘটনা তুলে ধরেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, ‘১৯৬৯ সাল, তখন বয়স আমার সাড়ে ১৩ বছর। বঙ্গবন্ধু আমাদের মোহাম্মদপুরের বাসায় এলেন। মনটা আমার উত্ফুল্ল হয়ে গেল। আসার হেতু, আমার পিতা তার বন্ধু ও আইনজীবী। সেদিন বা তার দুই-এক দিন আগে পাকিস্তান সরকারের একটি মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় দিয়ে বঙ্গবন্ধুকে নির্দোষ প্রমাণিত করে কোর্ট খালাস দিয়েছে। বঙ্গবন্ধু একটি টয়োটা গাড়িতে করে আমাদের বাড়ি এলেন। আমার পিতার সঙ্গে কোলাকুলি করার পর একটি মিষ্টির প্যাকেট হাতে দিয়ে বললেন, উকিলের বাসায় খালি হাতে আসা উচিত নয়। তুই তো ফি নিবি না, এক প্যাকেট মিষ্টি এনেছি। তিনি ভেতরে গিয়ে বসলেন। তারপর চা এলো। চায়ের সঙ্গে গুড়ের সন্দেশও ওনার জন্য দেওয়া হলো। আমি ওনার পাশেই ছিলাম। উনি সন্দেশের বাটিটা হাতে নিয়ে আমাকে বললেন, তুই নে। আমি বললাম, আগে আপনি নিন। জবাবে আমাকে বললেন, তুই যদি না নিস, তাহলে পুরো বাটিটা মাটিতে ফেলে দেব। তখন তাড়াতাড়ি করে আমি একটা সন্দেশ নিলাম। উনিও একটা নিলেন। যাওয়ার সময় পিতাকে জিজ্ঞাসা করলেন, সাংবাদিক এ বি এম মূসার বাড়ি নাকি তোর বাড়ির কাছেই? আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় আমার ছদ্মনাম ছিল পরশ। ওর ছেলের নামও নাকি পরশ রেখেছে। তাকে একটু দেখে যাব।’
বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেসার আপসহীন অবস্থানের কথা তুলে ধরে বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার আইনজীবী আনিসুল হক বলেন, ‘১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সেই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সময় বঙ্গমাতাকে যখন তারা বেডরুম থেকে নিয়ে আসছিল এবং সিঁড়ির কাছে এসে যখন বঙ্গবন্ধুর লাশ দেখছিলেন, তখন ঘাতকদের তিনি বলেছিলেন, আমাকে এখানেই মেরে ফেলো। আমি আর কোথাও যাব না।’
