‘মার্চ মাসের আট-দশ তারিখ থেকেই আমরা বুঝতে পারছিলাম পরিস্থিতি খারাপের দিকে যাচ্ছে। দেশ লকডাউন হতে আর দেরি নাই। তাই আমরা আগে থেকেই আমাদের শিক্ষার্থীদের কথা চিন্তা করে বিকল্প ব্যবস্থা নিয়েছিলাম। বিকল্প হিসেবে আমরা অনলাইন ক্লাস চালু রাখি। এর উপযুক্ত ফল শিক্ষার্থীরা পেয়ে। কথাগুলো বলছিলেন ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদের উপাচার্য মুক্তিযোদ্ধা প্রফেসর ড. মকবুল আহমেদ খান।
তিনি বলেন, ‘দেশের বিশিষ্ট কম্পিউটার বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কায়কোবাদ এবং প্রফেসর আব্দুর রশীদ আমাদের তিনশো শিক্ষককে প্রশিক্ষণ দেন। অনলাইনে ক্লাস নেয়ার জন্য যা যা লাগবে সে বিষয়ে তারা বিস্তারিত বলেন। প্রথম প্রশিক্ষণের পরও কিছু সংশয় শিক্ষকদের মধ্যে ছিল। ১৮তারিখে একই বিষয়ে বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়।’
ইইউবি উপাচার্য জানান, শিক্ষকদের জন্য প্রযুক্তিগত যা যা সাপোর্ট দরকার ছিলো পর্যাপ্ত যোগান দেয়া হয়েছে। প্রথমত শিক্ষকদের জন্য দুটি অপশন ছিলো, ক্লাসরুমে এসে ক্লাস নেয়া অথবা বাসায় থেকে ক্লাস নেয়া। প্রথম দিকে যাদের অনলাইনে পাঠদান করতে একটু সমস্যা হচ্ছিলো তারা ক্লাসরুমে এসে অন্য শিক্ষকদের সহায়তা নিয়েছেন। আনন্দের বিষয় বিশ্ববিদ্যালয়ে অনলাইন পরীক্ষায় ৯৫% শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। করোনাকালে এ ইইউবির শিক্ষার্থীদের জন্য টিউশন ফিয়ের উপর পঞ্চাশ শতাংশ ছাড় দেয়া হয়েছে। এছাড়া ভর্তির ক্ষেতেও ছাড় দেয়া হয়েছে ৩০শতাংশ।
ড. মকবুল আহমেদ খান বলেন, ‘ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ-এর টিউশন ফি এমনিতেই অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের থেকে চার ভাগের এক ভাগ থেকে পাঁচ ভাগের এক ভাগ। আমাদের নিজস্ব ক্যাম্পাস। এর ফলে শিক্ষার্থীদের জন্য নানারকম সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করা সহজ হয়েছে।’
তবে, পরীক্ষাগ্রহণের সময়কাল কিছুটা পিছিয়েছিলো। এর কারণ সম্পর্কে ইইউবির ফ্যাকাল্টি ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড ইভ্যালুয়েশন-এর ডাইরেক্টর ড. ফারজানা আলম বলেন, ‘করোনার সময়ে আমরা আমাদের টাইম ম্যানেজমেন্ট করেছি, যার ফলে কোন সেশনজট তৈরি হয়নি। আমরা মনে করি প্রতিটি মুহূর্ত শিক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এ জন্য করোনাকালে যতোগুলো সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে, যতোগুলো সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা হয়েছে সবগুলো করা হয়েছে টাইম মেইনটেইন করার জন্য। সমস্যা আগে ভাগে বুঝতে পারার জন্য ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় এবং অভিজ্ঞতা বলে একটা ব্যাপার থাকে।
আমাদের ভিসি স্যার, রেজিস্ট্রার স্যার এবং প্রোক্টর স্যার উনারা বীর মুক্তিযোদ্ধা, সমস্যা মোকাবিলা করার যথেষ্ট মানসিক শক্তিতো বটেই, সমস্যা আগেভাবে বুঝতে পারার দূরদর্শিতাও উনারা দেখিয়েছেন। উনারা একটা কথা সব সময় বলেন, সব কিছু ম্যানেজ করা যায় সময় কিন্তু কেনা যায় না। করোনা চলে যাবে, অনেক কিছুই হবে। সব কিছু কেনাগেলেও সময় কেনা সম্ভব না। এ করোনাকালে শিক্ষার্থীদের জীবন থেকে একটা সেমিস্টার চলে যাক সেটা আমরা চাইনি। সময় নষ্ট করাটা আমাদের জন্য একটা লাক্সারি। আমরা যে ধরণের শিক্ষার্থীদের পড়াই তাদের জন্য, এমনকি বাংলাদেশের জন্যও।’
ইত্তেফাক/বিএএফ
