অস্ত্রবিরতি চুক্তির প্রতিবাদে ইসরাইলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী আভিগেদর লিবারম্যানের পদত্যাগকে ‘রাজনৈতিক বিজয়’ হিসেবে বর্ণনা করেছে হামাস। সংগঠনটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, লিবারম্যান গাজায় হামলা অব্যাহত রাখতে চাইলেও হামাসের পাল্টা হামলায় ইসরাইল অস্ত্রবিরতিতে বাধ্য হয়েছে। ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় হামলা অব্যাহত রাখতে না পারায় পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে এরই মধ্যে আগাম নির্বাচনের আহ্বান জানিয়েছেন লিবারম্যান। জোট সরকার থেকে তার পদত্যাগের কারণে দেশটির পার্লামেন্ট ভেঙে দিয়ে আগাম নির্বাচন নিয়ে গুঞ্জন তৈরি হয়েছে।
হামাসের মুখপাত্র সামি আবু জুরি বুধবার বলেন, লিবারম্যানের পদত্যাগ ‘পরাজয়ের স্বীকৃতি এবং ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ মোকাবিলায় ব্যর্থতার’ ইঙ্গিত দেয়। তিনি আরো বলেন, ‘গাজার দৃঢ়তা ইসরাইলকে একটি রাজনৈতিক অভ্যাঘাত পাঠায়।’ হামাসের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘প্রতিরোধ আন্দোলন এবং ইহুদিবাদী শত্রুদের মধ্যে যুদ্ধবিরতি স্থাপনে মিসরের প্রচেষ্টা সফল হয়েছে।’ ইসরাইল ও হামাসের হামলা-পাল্টা হামলার পর মিসরের মধ্যস্থতায় গত মঙ্গলবার থেকে গাজায় অস্ত্রবিরতি শুরু হয়। যুদ্ধবিরতিকে নিজেদের বিজয় হিসেবে আখ্যায়িত করে আসে শত শত ফিলিস্তিনি গাজার রাস্তায় তা উদযাপনও করেন।
গত ১১ নভেম্বর অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ঢুকে সাতজনকে হত্যা করে ইসরাইলি বাহিনী। নিহতদের মধ্যে ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসের শীর্ষস্থানীয় কমান্ডারও রয়েছেন। এই হামলার জবাবে ১২ নভেম্বর সকাল থেকে গাজা উপত্যকা থেকে ইসরাইলে রকেট হামলা চালায় হামাস। এসব হামলা-পাল্টা হামলায় কমপক্ষে ১৫ ফিলিস্তিনি ও দুই ইসরাইলি নিহত হয়। ফিলিস্তিন ও ইসরাইলের মধ্যে সাম্প্রতিক এই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিকে ২০১৪ সালের যুদ্ধ পরবর্তী সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থা হিসেবে আখ্যায়িত করে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো।
ইসরাইলের হামলা মোকাবিলায় শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল ফিলিস্তিনিরা। গাজা থেকে ছোঁড়া রকেট হামলার মুখে অস্ত্রবিরতি মেনে নিতে বাধ্য হয় ইসরাইল। এরপরই পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে লিবারম্যান বলেন, হামাসের মোকাবিলায় অস্ত্রবিরতি মেনে নেওয়ার অর্থ হচ্ছে, তাদের কাছে আত্মসমর্পণ করা। ইসরাইলের সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, জোট সরকার থেকে লিবারম্যানের পদত্যাগের কারণে সংসদ ভেঙে দেওয়া হতে পারে। এর ফলে ইসরাইলে আগাম নির্বাচন অনুষ্ঠানের সম্ভাবনা রয়েছে।
