বরবটি ও শিমের মতো লতা জাতীয় উদ্ভিদ। ফলের আকৃতি চার পাখা বা শিরা বিশিষ্ট যা দেখতে অনেকটা কামরাঙার মতো। তাই এই সবজি কামরাঙা শিম নামে পরিচিত। গাছের লতা, ফুল, পাতা, ফল, শিকড় সব অংশই খাওয়া যায়। এ শিম চওড়ায় ২ থেকে ৩ সেন্টিমিটার ও লম্বায় বেশি ২০ সেন্টিমিটার হয়। ১০-১৫ ফুট লম্বা হয় একেকটা পূর্ণাঙ্গ শিমগাছ। প্রতিটি গাছে ৪০-৫০টা ফল ধরে। ফল ধরা শুরু হলে ৩ মাস পর্যন্ত কামরাঙা শিম সংগ্রহ করা যায়।
পশ্চিম আফ্রিকা কামরাঙা শিমের আদি নিবাস। ভারতীয় উপমহাদেশে প্রথমে এর চাষ শুরু হয়। কামরাঙা শিমের আবাদ তুলনামূলকভাবে বেশি দক্ষিণ ও পূর্ব দক্ষিণ এশিয়ায়। এছাড়া পাপুয়া নিউগিনি, মিয়ানমার, মাদাগাস্কার, আমেরিকা ও অস্ট্রেলিয়ায় অনেক বছর আগে থেকেই এ শিমের চাষ হতো। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে বেশি উচ্চতা (১৫০০-২৫০০ ফুট) বিশিষ্ট স্থানে এ সবজি আবাদের জন্য বেশি উপযোগী। এ সুবিধার কারণে দেশের পার্বত্য জেলাগুলোতে কামরাঙা শিমের আবাদ বেশি। উত্তরাঞ্চলেও কোনো কোনো পরিবার সীমিত আকারে এ শিম আবাদ করে। বেশি আর্দ্রতা বিশিষ্ট উষ্ণ ও নাতিশীতোষ্ণ আবহাওয়া এই শিম চাষের জন্য বেশি উপযোগী। কামরাঙা শিমের চাষে পানির প্রয়োজনীয়তা কম, তাই শুকনো এলাকায় চাষ বেশি হয়।
কামরাঙা শিম অতি পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ সবজি। মানুষসহ প্রাণিকুলের জন্য এটা অতি উপাদেয় ও পুষ্টিকর। কচি পাতা সুস্বাদু, পুষ্টিকর শাক হিসেবে খাওয়া যায়। এ শিমের হালকা নীল ফুল সালাদ ও সবজি হিসেবে খেতে চমত্কার। কচি পাতা শুকিয়ে পাউডার করে চায়ের বিকল্প পানীয় হিসেবে ব্যবহার প্রচলন অনেক দেশেই আছে। কামরাঙা শিমে প্রোটিন অনেক বেশি। বীজে সয়াবিনের মতো প্রোটিন থাকে (৩০-৩৯ শতাংশ)। আরো আছে মিনারেলস, কার্বোহাইড্রেট, ফ্যাট। কার্বোহাইড্রেট ও সোডিয়ামের পরিমাণ বেশি থাকে ও কোলেস্টেরল থাকে না। ক্যালসিয়ামের উপস্থিতি খুব বেশি। শেকড়েও প্রচুর প্রোটিন থাকে, প্রায় ২০ শতাংশ। অনেক হারবাল মেডিসিন উপাদান হিসেবে ব্যবহার করা হয়। লিগুমিনাস দলীয় ফসল হওয়ার কারণে জমির স্বাস্থ্য রক্ষা করে। কাপ্তাইয়ের পাহাড়ি কৃষি গবেষণা কেন্দ্র, রাইখালীর নতুন উদ্ভাবন বারি কামরাঙা শিম-১। দেশি জাতগুলো মূলত আলোকসংবেদনশীল। তাই এ সবজি হেমন্ত, শীত ও বসন্তকালে দিনের আকার ছোট থাকা অবস্থায় চাষ করা হয়।
