অডিট রিপোর্টে স্বচ্ছতা আনা এবং জাল ও ভুয়া অডিট রিপোর্ট বন্ধ করতে ‘ডকুমেন্ট ভেরিফিকেশন সিস্টেম’ (ডিভিএস) নামে একটি নতুন সফটওয়্যার তৈরি করেছে দি ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশ (আইসিএবি)। এখন থেকে সংস্থাটির নিবন্ধিত যে কোনো হিসাববিদের প্রস্তুত করা প্রতিটি নিরীক্ষিত হিসাব প্রতিবেদনসহ যাবতীয় তথ্য ঐ সফটওয়্যারে আপলোড করতে হবে। ঐ সফটওয়্যারের মাধ্যমে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) জমা দেওয়া নিরীক্ষিত হিসাব প্রতিবেদন সঠিক কি না, তা যাচাই করতে পারবেন কর কর্মকর্তারা। আইসিএবির ডাটাবেজের সঙ্গে এনবিআরের ডাটাবেজের তথ্য মিলিয়ে দেখা হবে। যেসব প্রতিষ্ঠানের অডিট রিপোর্টে ও তথ্য আইসএবির ডাটাবেজে পাওয়া যাবে না, এখন থেকে সে প্রতিষ্ঠানগুলোকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে ধরা হবে।
এ লক্ষ্যে গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর একটি হোটেলে আইসিএবি ও এনবিআরের মধ্যে একটি চুক্তি সই হয়। এ উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন এবং ডিভিএসের উদ্বোধন ঘোষণা করেন। এ সময় অর্থমন্ত্রী বলেন, হিসাববিদেরা দেশের হিসাব পেশার কর্ণধার। দেশের উন্নয়নে তাদের ভূমিকা ব্যাপক। তিনি হিসাববিদের প্রতি পেশাগত দায়িত্ব পালনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বজায় রাখার আহ্বান জানান। এই ডকুমেন্ট ভেরিফিকেশন সিস্টেম (ডিভিএস) রাজস্ব আদায় বাড়াতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলে তিনি মন্তব্য করেন। পাশাপাশি অডিট রিপোর্ট জালিয়াতি বন্ধে ডিভিএস ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন এনবিআরের চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমতুল মুনিম। তিনি বলেন, দেশে রেজিস্ট্রার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানি অ্যান্ড ফার্মস (আরজেএসসি)-এর নিবন্ধিত কোম্পানির সংখ্যা ১ লাখ ৭৬ হাজার এবং এর মধ্যে ৭৮ হাজার কোম্পানি টিআইএন গ্রহণ করেছে। কিন্তু এর মধ্যে অর্ধেকের বেশি কোম্পানি আয়কর রিটার্ন দাখিল করে না। কিছু কোম্পানি নামমাত্র অডিট করে, অনেক ক্ষেত্রে ভুয়া অডিট করে পার পাচ্ছে। ফলে দেশ বিশাল রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এসব অনিয়ম দূর করার জন্য এই ডিভিএস বেশ কার্যকর হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি পেলে করপোরেট ট্যাক্সের হারও কমানো হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
আইসিএবির প্রেসিডেন্ট মুহাম্মদ ফারুক এফসিএ এ সময় স্বাগত বক্তব্যে উল্লেখ করেন, আইসিএবির এই ডাটাবেজ পুরো আর্থিক খাতের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। ফলে করপোরেট কর আদায় বাড়বে।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, আগামী মাস থেকে আইসিএবির সদস্যরা বিভিন্ন কোম্পানির যত হিসাব নিরীক্ষা করবেন, সেগুলোর প্রায় সব তথ্য তাদের বাধ্যতামূলকভাবে ঐ সফটওয়্যারে দিতে হবে। তথ্য দেওয়ার পর সফটওয়্যারটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ঐ নিরীক্ষিত হিসাব প্রতিবেদনের অনুকূলে একটি ‘ডকুমেন্ট ভেরিফিকেশন কোড’ দেবে। কোম্পানির মোট আয়-ব্যয়সহ কিছু সাধারণ তথ্য দিতে হবে, যা ঐ কোড দিয়ে প্রবেশ করলেই দেখা যাবে। ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা সিকিউরিটিজ এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএইসি)সহ অন্যান্য রেগুলেটরি প্রতিষ্ঠান এই ডাটাবেজ ব্যবহার করতে পারবে। তবে এজন্য তাদের এমওইউ করতে হবে। অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন আইসিএবির সাবেক প্রেসিডেন্ট ও কাউন্সিল মেম্বার মো. হুমায়ুন কবির এফসিএ, কামরুল আবেদীন এফসিএ ও আদিব হোসেইন খান এফসিএ।
