কুমিল্লায় হাসপাতাল ক্লিনিক স্থাপনে মানা হচ্ছে না বিধি!

আপডেট : ১২ নভেম্বর ২০২০, ২১:৪৪

কুমিল্লায় প্রাইভেট হাসপাতাল ও ক্লিনিক স্থাপনে সরকারি বিধি না মানার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা সদরগুলোতে সরকারি হাসপাতালের পাশেই প্রাইভেট হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার গড়ে তোলা হচ্ছে। এতে সরকারি হাসপাতালের চিকিত্সাসেবা থেকে বঞ্চিত হওয়ার পাশাপাশি প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানে চিকিত্সার নামে সাধারণ রোগীরা নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। কুমিল্লা সদর হাসপাতাল, কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ (কুমেক) হাসপাতাল ও একাধিক সরকারি হাসপাতাল এলাকায় ঘুরে এসব তথ্য জানা গেছে।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, কুমিল্লা সদর হাসপাতালের লাগোয়া উত্তর পাশের সড়কের দুই পাশে হাসপাতাল সীমানা প্রাচীরের মাত্র ২০ গজ থেকে প্রায় ৩০০ গজের মধ্যে রয়েছে ডজনাধিক প্রাইভেট হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। এছাড়া কুমেক হাসপাতালের আশপাশেও এ ধরনের বেসরকারি অনেক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। কথা হয় কুমিল্লা সদর হাসপাতালের পাশের একটি প্রাইভেট হাসপাতালে ভর্তি হওয়া জেলার বুড়িচং উপজেলার রাজাপুর গ্রামের আলী আকবর (৬০) নামের এক রোগীর স্বজনের সঙ্গে। তিনি বলেন, ঐ রোগী বুড়িচং সরকারি হাসপাতালে কয়েকদিন চিকিত্সা নিয়েছেন। ডাক্তার বলেছেন রোগীর লিভারের সমস্যা, তাই তিনি রোগীকে কুমিল্লা মেডিক্যালে ভর্তির পরামর্শ দেন। পরে ঐ হাসপাতালের এক জনের পরামর্শে রোগীকে এই প্রাইভেট হাসপাতালে ভর্তি করেছি। নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষাসহ এ পর্যন্ত অর্ধলক্ষাধিক টাকা খরচ করেও রোগীর কোনো উন্নতি হচ্ছে না। সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) কুমিল্লা শাখার সভাপতি বদরুল হুদা জেনু বলেন, জেলা সদরসহ বিভিন্ন উপজেলার আনাচে-কানাচে প্রাইভেট হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ছড়াছড়ি দেখা যাচ্ছে। অধিকাংশ সরকারি ও প্রাইভেট হাসপাতাল-ক্লিনিককেন্দ্রিক দালাল চক্র বেশ সক্রিয়। যারা সাধারণ রোগীদের উন্নত চিকিত্সার প্রলোভন দেখিয়ে কৌশলে নিজেদের হাসপাতাল কিংবা ক্লিনিকে নিয়ে ভর্তি করেন। ফলে সুযোগ-সুবিধা থাকার পরও অনেক রোগী সরকারি হাসপাতালের কাঙ্ক্ষিত চিকিত্সাসেবা না পাওয়ার পাশাপাশি বিভ্রান্ত হয়ে আর্থিক ক্ষতির শিকার হচ্ছেন। তবে সরকারি হাসপাতালের পাশে নিয়ম না মেনে প্রাইভেট হাসপাতাল-ক্লিনিক স্থাপনের বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ নিলে সাধারণ রোগীরা উপকৃত হবে। কুমিল্লা সিভিল সার্জন ডা. মো. নিয়াতুজ্জামান বলেন, সরকারি হাসপাতালের ৩০০ গজের মধ্যে কোনো প্রাইভেট হাসপাতাল কিংবা ক্লিনিক থাকতে পারবে না, এমন অধ্যাদেশ থাকলেও তা না মেনে অনেক আগে থেকেই এগুলো স্থাপন করা হয়েছে। এ বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।