‘হুমায়ূনের মূল্যায়ন আজও যথাযথভাবে করা হয়নি’

আপডেট : ১২ নভেম্বর ২০২০, ২১:৫১

সাহিত্যের সামগ্রিক অবদানের জন্য এক্সিম ব্যাংক-অন্যদিন হুমায়ূন আহমেদ পুরস্কার পেয়েছেন কথাশিল্পী হাসনাত আবদুল হাই। একই সঙ্গে তরুণ সাহিত্যশ্রেণিতে এ পুরস্কার পেয়েছেন গল্পকার নাহিদা নাহিদ। গতকাল বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে বিজয়ীদের হাতে এ পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। ক্রেস্ট, সনদপত্রের পাশাপাশি হাসনাত আবদুল হাই ও নাহিদা নাহিদ যথাক্রমে ৫ লাখ ও ১ লাখ টাকা সম্মানী পেয়েছেন। প্রতিবছর হুমায়ূন আহমেদের জন্মদিনের আগের দিন এ পুরস্কার প্রদান করা হয়ে থাকে। হুমায়ূন আহমেদের মৃত্যুর পর ২০১৫ সালে এ পুরস্কার প্রবর্তিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ। সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও সংসদ সদস্য আসাদুজ্জামান নূরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন হুমায়ূন আহমেদের স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন ও এক্সিম ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মোহাম্মদ হায়দার আলী মিয়া। স্বাগত বক্তব্য রাখেন অন্যদিন সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে ভিডিও বার্তার মাধ্যমে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করেন বিচারকমণ্ডলীর প্রধান অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম। বিচারকমণ্ডলীর অন্য সদস্যরা ছিলেন সদ্য প্রয়াত কালি ও কলম সম্পাদক আবুল হাসনাত, রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বিশ্বজিত্ ঘোষ এবং কথাশিল্পী হরিশংকর জলদাস। অনুষ্ঠানের শুরুতেই প্রয়াত জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান ও সদ্য প্রয়াত সাহিত্য সম্পাদক কবি আবুল হাসনাত স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

পুরস্কারপ্রাপ্তির অনুভূতি ব্যক্ত করে ‘নভেরা’ খ্যাত লেখক হাসনাত আবদুল হাই বলেন, আমি সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় লিখেছি। বলতে গেলে অনাধিকার চর্চা করেছি। তবে সেখানেই আমার তৃপ্তি। তিনি জানান, সম্প্রতি আমি উইলিয়াম শেকসপিয়রের ‘হ্যামলেট’ ও ‘ম্যাকবেথ’—এ দুই নাটককে এক করে ‘হ্যাম-বেথ’ নামে একটি নাটক লিখেছি। আমার আগে এমন উদ্যোগ আর কেউ নিয়েছে কিনা জানা নেই। আমি বলতে চাই, এটাই আমার জীবনের সেরা লেখা।

নাহিদা নাহিদ বলেন, ‘আমি উচ্ছ্বসিত, আপ্লুত। এ মঞ্চে দাঁড়াতে পেরে আমি নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করছি। এ পুরস্কার আমাকে সাহস জোগাবে। মুকুট যেহেতু পরেছি, সেটা ধরে রাখার চেষ্টা করব।’

আসাদুজ্জামান নূর বলেন, ‘হুমায়ূনকে শুধুই জনপ্রিয় লেখক হিসেবে দেখা হয়, জনপ্রিয় নাটকের লেখক দেখা হয়। তার সত্যিকার অর্থে বিশ্লেষণ হয়নি। কেন তিনি জনপ্রিয় হলেন, কেন তিনি মানুষের ভালোবাসা পেলেন সেই গবেষণা হওয়া জরুরি। তার মূল্যায়ন যথাযথভাবে এখনো হয়নি। যদিও আমাদের দেশে সবকিছু অনেক দেরিতে হয়।’

কে এম খালিদ বলেন, ‘হুমায়ূন আহমেদের বইয়ের সবচেয়ে বড় দিক হলো, তা শেষ না করে উঠা যায় না। মানুষ যত খারাপই হোক না কেন, প্রতিটি মানুষের মধ্যে কিছু ভালো দিক আছে, সেটা হুমায়ূন আহমেদ তার বইয়ের মাধ্যমে তুলে ধরেছেন।’

মেহের আফরোজ শাওন বলেন, ‘যারা এ সাহিত্য পুরস্কার পেয়েছেন, তাদের হুমায়ূন আহমেদ পরিবারে স্বাগত। এ পুরস্কার যারা সাহিত্যাঙ্গনে রয়েছেন, তাদের অনুপ্রাণিত করবে।’