সারা দেশে অসহায় জনগোষ্ঠীর মানুষ নির্যাতনের শিকার। এসব ঘটনা তদন্তে প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের এক অদৃশ্য যোগসূত্র লক্ষ্য করা যায়। এমনকি অপরাধীদের সঙ্গে তাদের এক ধরনের নিবিড় সংশ্লিষ্টতা থাকে। এটি আমাদের সমাজকে একটি অপরাধপ্রবণ সমাজ হিসেবে গড়ে তুলছে। এই ধরনের অরাজক অবস্থা প্রতিহত করতে সংসদে কোনো জনপ্রতিনিধি তার এলাকায় কত ধরনের অপরাধের সঙ্গে যুক্ত সেটি চিহ্নিত করতে এবং খতিয়ে দেখার আহ্বান জানান।
বৃহস্পতিবার সকালে শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে আয়োজিত ‘সাম্প্রদায়িক সহিংসতা প্রতিরোধে প্রতিবাদী অবস্থান কর্মসূচি’তে বক্তারা এ আহ্বান জানান। ‘সহিংসতামুক্ত অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ বিনির্মাণে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পরিপূর্ণ বাস্তবায়ন চাই’—এই শ্লোগানকে সামনে রেখে প্রতিবাদী অবস্থান কর্মসূচির আয়োজন করে ১৬৮ সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত ‘সামাজিক প্রতিরোধ কমিটি’।
অবস্থান কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, এক অসাম্প্রদায়িক, সমতাপূর্ণ ও মানবিক সমাজ তৈরির যে লক্ষ্য নিয়ে দেশ স্বাধীন হয়েছিল, তা পূর্ণ হয়নি। সাম্প্রতিক সময়ে দেখা যাচ্ছে যে, দেশে ধর্ম অবমাননার নামে সহিংসতা সৃষ্টি করা হচ্ছে, যার শিকার হচ্ছে নারীসহ সবাই। ঘটনা ঘটার পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তত্পরতা সত্ত্বেও বিচারের দীর্ঘসূত্রতা হতে দেখা যায়; কিন্তু প্রশাসনের তত্পরতা ঘটনা ঘটার আগেই হওয়া প্রয়োজন। সহিংসতামু্ক্ত বাংলাদেশ গড়তে হলে আমাদের এসব অপতত্পরতা প্রতিরোধ করতে হবে। এজন্য ঐক্যবদ্ধভাবে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়।
সভাপতির বক্তব্যে মহিলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম বলেন, সম্প্রতি সর্বত্র হত্যা, খুন, নারী নির্যাতন, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, পুলিশ হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনা নিয়মিত লক্ষ্য করা যাচ্ছে মিডিয়ার খবর থেকে। সংখ্যালঘু আর অসহায় মানুষ হচ্ছে নির্যাতনের শিকার। সর্বত্রই অপরাধীদের সঙ্গে প্রভাবশালীদের যোগসূত্র থাকে। সেই ক্ষমতার ছত্রছায়ায় অপরাধ সংঘটন হচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, বর্তমান সময়ে উন্নয়নও হচ্ছে। এর প্রকৃত সুফল পেতে হলে একটি অসাম্প্রদায়িক, মানবিক, সমতাপূর্ণ সমাজ গড়ে তোলা আজ সময়ের দাবি। এর জন্য সংবিধান পরিবর্তন, ৭২-এর সংবিধান নীতি অনুসরণ করা, জনপ্রতিনিধিদের কাজের হিসাব নেওয়া, বিচারের দীর্ঘসূত্রতা দূর করা, নারীর প্রতি নির্যাতন বন্ধ করা, ফতোয়ার নারীবিরোধী বক্তব্যের জন্য শাস্তি এবং শিক্ষাকে মানবিক করে গড়ে তোলার জন্য তিনি সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান।
অবস্থান কর্মসূচিতে সংহতি প্রকাশ করেন, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক, সেন্ট্রাল উইমেন্স ইউনিভার্সিটির সোশিওলজি অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ও প্রধান ড. মালেকা বেগম। কর্মসূচিতে সামাজিক প্রতিরোধ কমিটির পক্ষে দাবি (সংযুক্ত) তুলে ধরেন আইইডির সঞ্চিতা তালুকদার।
আরো বক্তব্য রাখেন, ঢাকা ওয়াই ডব্লিউ সিএর সাধারণ সম্পাদক হেলেনা মনীষা সরকার, আইন ও সালিশ কেন্দ্রের রাখী জামান, উই ক্যান অ্যালায়েন্সের জিনাত আরা হক, মহিলা পরিষদের সহসভাপতি রেখা চৌধুরী, স্টেপস টুয়ার্ডসের নির্বাহী পরিচালক রঞ্জন কর্মকার, জাতীয় নারী জোটের আফরোজা হক রীনা, একশন এইডের মরিয়ম নেছা, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের শাহিদা পারভীন শিখা, অ্যাডাবের পরিচালক এ কে এম জসীম উদ্দিন, দলিত নারী ফোরামের তামান্না, বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘের সেলিনা পারভীন, নিজেরা করির সৈয়দ ফরহাদ, কর্মজীবী নারীর হাসিনা আক্তার নাইনু, জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরামের নাছিমা আক্তার জলি।
