যুক্তরাষ্ট্রের জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ-এর চেয়ারম্যান জেনারেল মার্ক মিলে বলেছেন, সামরিক বাহিনী ব্যক্তির স্বার্থ রক্ষায় নয়, সংবিধানকে সমুন্নত রাখতে কাজ করবে। কারণ আমরা কোনো রাজা, রানী, স্বৈরশাসক, নিপীড়ক বা ব্যক্তির কাছে শপথ নেইনি। গত বুধবার ভার্জিনিয়ার ফোর্ট বেলভয়েরে মার্কিন সেনাবাহিনীর জাতীয় জাদুঘরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, সামরিক বাহিনীর সদস্যরা নির্বাচন পরবর্তী ক্ষমতা হস্তান্তরের কাজে যুক্ত হবেন না। বার্তা সংস্থা এসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) বরাত দিয়ে গতকাল এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করে ডেইলি বুলেটিন নামের একটি ওয়েবসাইট।
সাত সদস্যের জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ মার্কিন প্রেসিডেন্ট, দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি কাউন্সিল ও জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলে সামরিক বিষয়ে পরামর্শ দিয়ে থাকে। মার্ক মিলে তাদের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। জেনারেল মার্ক মিলে এমন সময় এই মন্তব্য করলেন যখন যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ও এর ফল নিয়ে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটিক পার্টিতে দ্বন্দ্ব চলছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ফল মানছেন না, তবু জো বাইডেন হোয়াইট হাউজে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। চার দিন আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রতিরক্ষামন্ত্রী মার্ক এসপারকেও বরখাস্ত করেছেন।
জেনারেল মিলে বলেন, সামরিক বাহিনীর পোশাক পরিহিত সবার মৌলিক এবং একক দায়িত্ব হচ্ছে সংবিধানকে রক্ষা করা। তিনি এই দায়িত্বকে ‘মোরাল নর্থ স্টার’ বা ‘নৈতিক ধ্রুবতারা’ বলে আখ্যায়িত করেন। সামরিক বাহিনী গণতন্ত্রকে সমুন্নত রাখবে এবং রাজনৈতিক ঘুঁটি হিসেবে ব্যবহূত হবে না উল্লেখ করেন তিনি।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সম্প্রতি প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে পরিবর্তন এনেছেন। তার এই পরিবর্তনের উদ্দেশ্য পরিষ্কার নয়। প্রশ্ন উঠেছে, তিনি এর মাধ্যমে সামরিক বাহিনী দিয়ে কিছু একটা করার চেষ্টা করছেন। এমন পরিস্থিতিতে মার্ক মিলে বলেন, নির্বাচন নিয়ে যে কোনো দ্বন্দ্ব আইন অনুযায়ী আদালত ও কংগ্রেসেরই সমাধান করা প্রয়োজন, সামরিক বাহিনী কর্তৃক নয়।
জানা গেছে, সামরিক বাহিনীর কমান্ডাররা গতকাল পর্যন্ত নতুন কোনো নির্দেশনা পাননি। মার্ক মিলেসহ শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তারা আমেরিকাকে শক্তিশালী ও নির্ভরযোগ্য বিশ্বশক্তি হিসেবেই ধরে রাখতে চান।
