সাত বছরে চারবার নোটিশ। প্রতিবারই নোটিশের জবাব দাখিল করেছেন জামালপুরের সেটেলমেন্ট অফিসার মো. মাহবুব আনোয়ার। নোটিশ দেওয়া হলেও শেষ হয়নি অনুসন্ধান। দীর্ঘ সময়ে অনুসন্ধান শেষ না করায় সর্বশেষ নোটিশদাতা দুদকের সহকারী পরিচালক মো. আমির হোসেনকে কারণ দর্শাতে বলেছে হাইকোর্ট। একই সঙ্গে নোটিশদাতা দুদকের চার কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে তা প্রতিবেদন আকারে আদালতে দাখিল করতে দুদক চেয়ারম্যানকে বলা হয়েছে। এ সংক্রান্ত মামলার রুল শুনানিকালে বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি আহমেদ সোহেলের ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল বৃহস্পতিবার এই আদেশ দেন।
প্রসঙ্গত, ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসার থাকাকালে মো. মাহাবুব আনোয়ারকে জ্ঞাত-আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ২০১৩ সালের ২৮ অক্টোবর দুদকের উপ-সহকারী পরিচালক মো. আতাউর রহমান সরকার নোটিশ দেন। অনুসন্ধান কাজে সহযোগিতার জন্য দুদকের দেওয়া ঐ নোটিশের জবাব দেন তিনি।
চার বছর পর ২০১৭ সালের ২ আগস্ট আরেক সহকারী পরিচালক রামপ্রসাদ মণ্ডল একই বিষয়ে তাকে দ্বিতীয়বার নোটিশ দেন। এরপর ২০১৮ সালের ১৯ মার্চ দুদকের সহকারী পরিচালক মো. আতিকুল আলম ঐ সেটেলমেন্ট অফিসারকে তৃতীয় দফায় নোটিশ দেন। সর্বশেষ ২০১৯ সালের ১১ মার্চ সহকারী পরিচালক মো. আমির হোসেন সর্বশেষ নোটিশ দেন। প্রত্যেকটি নোটিশেরই জবাব দাখিল করেন মাহবুব আনোয়ার। কিন্তু অনুসন্ধান কাজ শেষ না করায় তিনি মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন উল্লেখ করে হাইকোর্টে রিট করেন।
রিটের শুনানি শেষে গত বছরের ২৫ মার্চ হাইকোর্ট রুল জারির পাশাপাশি নোটিশের কার্যকারিতা স্থগিত করে দেয়। গতকাল হাইকোর্টে রুলের উপর শুনানি শুরু হয়। শুনানিতে রিটকারীর পক্ষে আইনজীবী মনসুর হাবিব, দুদকের পক্ষে মো. ওমর ফারুক ও রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক শুনানি করেন।
