ভালো আছে রাবেয়া ও রোকেয়া

আপডেট : ১৩ নভেম্বর ২০২০, ০৪:৫২

ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) জোড়া মাথা বিযুক্তকরণ সফল অপারেশন মাধ্যমেই দুই শিশু গত এক বছর ধরে সুস্থ জীবনযাপন করছে। বর্তমানে তারা সিএমএইচে চিকিত্সাধীন রয়েছে।

শিশুদ্বয়ের ধারাবাহিক চিকিত্সা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে গত ২৭ অক্টোবর হাঙ্গেরি থেকে আগত চার চিকিত্সকের উপস্থিতিতে দেশের সামরিক ও অসামরিক চিকিত্সকগণের সমম্বয়ে অপারেশন কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। শিশু রাবেয়া অনেকাংশেই ভালো আছে। সে প্রায় স্বাভাবিক কথাবার্তা বলতে পারে। এমনকি খেলাধুলাও করতে চায়। 

তবে রোকেয়ার স্নায়ুগত কিছু দুর্বলতা আছে। এ কারণে সে এখনো পরিপূর্ণ কথা বলতে বা হাঁটতে পারছে না। তবে নিজে নিজে খাবার গ্রহণ করতে পারছে। সে কথাও বুঝতে পারছে। আশা করা যায় শিগিগরই তার উন্নতি হবে। আইএসপিআর গতকাল এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ১৬ জুলাইয়ে পাবনার চাটমোহর থানার এক দম্পতি মো. রফিকুল ইসলাম ও মোছা. তাছলিমা বেগম ঘরে জন্মগ্রহণ করে জোড়া মাথার জমজ বাচ্চা। এরূপ জোড়া মাথার বাচ্চার বিযুক্তকরণ কার্যক্রমে সফলতা অর্জনের উদাহরণ অত্যন্ত কম। জোড়া মাথার যমজ শিশুর জন্য সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন হতে হয়েছে বাবা-মাকে। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নজরে আসে। প্রধানমন্ত্রী শিশুদ্বয়ের চিকিত্সা দায়ভার গ্রহণ করেন এবং প্রয়োজনীয় কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সেনাবাহিনীকে দায়িত্ব অর্পণ করেন। 

এরই ধারাবাহিকতায় সেনাবাহিনী প্রধানের নির্দেশনায় সামরিক চিকিত্সা সার্ভিস মহাপরিদপ্তরের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ও পরিকল্পনায় ঢাকা সিএমএইচে হাঙ্গেরী হতে আগত চিকিত্সক দল এবং বাংলাদেশের সামরিক ও অসামরিক চিকিত্কগণ কর্তৃক ২০১৯ সালের ১ আগস্ট হতে ৩ আগস্ট পর্যন্ত প্রায় ৩৩ ঘণ্টা বিযুক্তকরণ অপারেশন সফলতার সঙ্গে সম্পন্ন করা হয়। এটি বিশ্বের ১৭তম সফল বিযুক্তকরণ অপারেশন। বাংলাদেশে এরকম অপারেশন এটাই প্রথম; যা দেশের চিকিত্সাবিজ্ঞানের জন্য একটি মাইফলক।

ইত্তেফাক/জেডএইচ