এএসপি আনিসুল হত্যার প্রতিবাদে জাবি শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ 

আপডেট : ১৩ নভেম্বর ২০২০, ১৫:২৬

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৩তম ব্যাচের প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র এবং ৩১তম বিসিএস পুলিশ ক্যাডারের কর্মকর্তা, সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আনিসুল করিম শিপন হত্যার প্রতিবাদ ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা।

শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে বেলা সাড়ে ১১ টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত এই প্রতিবাদী কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন জাবির সাবেক ও বর্তমানের পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী।

গত ৯ নভেম্বর রাজধানীর আদাবরে মাইন্ড এইড হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য গেলে হাসপাতালের  কর্মীরা নির্মম নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করে এই মেধাবী কর্মকর্তাকে। হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজ হতে বিষয়টি সকলের নিকট সুস্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয়েছে। 

বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা জানান, চিকিৎসার নামে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। পাশাপাশি সারাদেশে যেসব অবৈধ হাসপাতাল রয়েছে সেসবের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। 

মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের ব্যানারে। 

আরো পড়ুন : একদিনে দুইবার করোনা পজিটিভ ও নেগেটিভ হলেন এলন মাস্ক!

জাবি ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও সিনেট সদস্য মেহেদী জামিল, সাবেক সাধারণ সম্পাদক নূর হোসেন সৈকত বক্তব্য দেন। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন তুহিন রেজা, মোহাম্মদ সোহেল পারভেজ, এস এম সাদাত হোসেন, সাংবাদিক চকর মালিথা, রাশেদ মেহেদী, আলমগীর স্বপন, কাজী জাকির হোসেন, জাহিদুর রহমান খান, এস এম নূরুজ্জামান, রেজাউল হক কৌশিক, রাশেদ রেজা ডিকেন, নাবিলা নুহাত চৈতি, গোলাম মুজতবা ধ্রুব, আয়েশা আক্তার ইতি,  ড. মো. শাহাদাত হোসেন, শেখ মো. নূরুজ্জামান,  সৈয়দ মাহমুদ আলী রতনসহ অনেকে।

হত্যাকাণ্ডের শিকার আনিসুল করিম শিপন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের আবাসিক ছাত্র ছিলেন। ১৯৮৪ সালের ২১ নভেম্বর তিনি গাজীপুর জেলার কাপাসিয়া উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন। ঢাকা বোর্ডের অধীনে ২০০০ সালে এসএসসি ও ২০০২ সালে এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় হতে ২০১০ সালে প্রাণরসায়নে এমএসসি সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে ৩১তম বিসিএস-এ অসামান্য কৃতিত্বের সাথে উত্তীর্ণ হন তিনি।  পুলিশ ক্যাডারে দ্বিতীয় স্থান পেয়ে সহকারী পুলিশ সুপার হিসেবে বাংলাদেশ পুলিশে যোগদান করেন। চাকরিকালীন তিনি পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ, র‌্যাবসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করেন। 

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে হত্যাকাণ্ডের তীব্র প্রতিবাদ ও  গভীর শোক প্রকাশ করা হয়। 

 

ইত্তেফাক/ইউবি