সুধীর বরণ মাঝি, শিক্ষক
হাইমচর সরকারি মহাবিদ্যালয়, চাঁদপুর
বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে হাসিব গিয়ে মাইকে বজ্রকণ্ঠে একটি ভাষণ শুনতে পেল। ভাষণের কথাগুলো ছিল ‘এবারের সংগ্রাম , আমাদের মুক্তির সংগ্রাম ................................ , প্রত্যেকে ঘরে ঘরে দূর্গ গড়ে তোল। তোমাদের যা কিছু আছে তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবিলা করতে হবে ................................ । ’
ঘ) ‘উক্ত ভাষণটি এদেশের মানুষকে স্বাধীনতার মন্ত্রে উজ্জীবিত করেছিল।’ - বিশ্লেষণ করো।
ঘ) উত্তর:উক্ত ভাষণটি অর্থাত্ ৭ই মার্চের ভাষণটি এদেশের মানুষকে স্বাধীনতার মন্ত্রে উজ্জীবিত করেছিল। বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ ছিল বাঙালির মুক্তির সনদ। ভাষণের পরই বঙ্গবন্ধুর নির্দেশনা অনুযায়ী ঐক্যবদ্ধ বাঙালি অসহযোগ আন্দোলনে অংশ নেয় এবং দলে দলে মুক্তি সংগ্রামে যোগ দান করেন। বঙ্গবন্ধুর ঘোষণা অনুযায়ী দেশের সকল স্কুল- কলেজ , অফিস-আদালত , কল-কারখানা সব বন্ধ হয়ে যায়। বিক্ষুব্ধ জনতা পাকিস্তানি বাহিনীকে বিভিন্নভাবে প্রতিরোধ করতে থাকে। খাজনা-ট্যাক্স আদায় বন্ধ হয়ে যায়। সেনানিবাস ছাড়া সব জায়গায় বঙ্গবন্ধুর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চ বঙ্গবন্ধু প্রথম স্বাধীনতার ঘোষণা করেন। সর্বস্তরের মানুষ এই ভাষণের শক্তিতে বলীয়ান হয়ে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। উদ্দীপকের হাসিব বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে যায় এবং বজ্রকণ্ঠের একটি ভাষণ শুনতে পায়। এই ভাষণটিই হলো ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ , যা বাঙালিদেরকে স্বাধীনতার মন্ত্রে উজ্জীবিত করেছিল। সামগ্রিক আলোচনা থেকে বলা যায় , বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ এদেশের মানুষকে স্বাধীনতার জন্য একত্রিত করতে এবং লড়াই-সংগ্রামে প্রাণশক্তি হিসেবে কাজ করেছে।
