এই সময়ের ছড়া
সজল আশফাক
লকডাউনে কাটল ন মাস এই জীবনের সন্ধি-সমাস
বদলে গেছে কত কী!
সবাই আমার মতো কী?
ঘরে বসে একটি দিনও ঝরাইনি ভাই ঘামটি
তাই উঠেছে ওজনদারের খাতায় আমার নামটি।
ন মাস পরে ডাক পড়েছে ফিরতে হবে কাজে
কিন্তু অবাক ব্যাপারটাকে লাগছে কেন বাজে?
জানেন সবাই ঠিক নিশ্চয় সবই নাকি অভ্যাসে হয়,
পোষ মেনে যায় বুনো।
কর্মমুখর জীবন ছেড়ে হলাম কি ঘরকুনো?
পরিবারের তাড়া খেয়ে ভাঙলাম আড়মোড়া
কাজ না যদি করি তবে খাবে কী রে ওরা!
বাইরে যাবার প্রস্তুতিতেই শুরু হলো ফাইট
লকডাউনের লকে পরে প্যান্ট হয়েছে টাইট
দুমড়ানো আর ধুলিমাখা মলিন জুতোজোড়া
দেখে মনে হচ্ছে যেন কী অচেনা ওরা!
শার্টগুলোরও একই দশা যাচ্ছেই না চেনা!
এত্তো ছোট শার্টগুলো কি আমার জন্য কেনা?
তারপরও যাক কষ্ট করে শার্টের ভেতর ঢুকি
দুই বোতামের মধ্যিখানে দিচ্ছে ভুঁড়ি উঁকি।
এখন কী যে হবে উপায় ঘরের শেকড় বাঁধা দুপায়
করোনাতেই আটকে গেছে জীবনযাপন ঘরে,
বাইরে যাব—মনে হতেই মন বিষাদে ভরে।
দম নিতে ভয় এখন যে হয় মাস্কটাকে তাও পরি,
কেউ জানি না করোনাতে কে বাঁচি কে মরি!
