দুর্নীতির মামলায় জামিন পাননি আট আসামি। হাইকোর্ট ওই আসামিদের জামিন বাতিল ও আবেদন খারিজ করে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছেন। বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কেএম হাফিজুল আলমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল মঙ্গলবার একাধিক দুর্নীতির মামলায় এসব আসামির জামিন আবেদনের ওপর এ আদেশ দেন। আদেশের বিষয়টি সাংবাদিকদের জানান ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট একেএম আমিনউদ্দিন মানিক। অপরদিকে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কৌঁসুলি অ্যাডভোকেট খুরশীদ আলম খান বলেন, অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনা করে হাইকোর্ট আসামিদের জামিন বাতিল করেছেন। এখন এসব আসামিকে আদালতের বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে আত্মসমর্পণ করতে হবে।
পাঁচ লাখ টাকা ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে নৌ-পরিবহন অধিদপ্তরের সাবেক প্রধান প্রকৌশলী ও সার্ভেয়ার ড. এস এম নাজমুল হকের জামিন বাতিল করে তাকে এক সপ্তাহের মধ্যে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। গত বছরের ১৩ আগস্ট ঢাকার মহানগর বিশেষ জজ আদালত আসামির জামিন মঞ্জুর করেন। এ আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আবেদন করে দুদক। রুল শুনানি শেষে নিম্ন আদালতের জামিন বাতিল করে রায় দেন হাইকোর্ট।
সোশ্যাল ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক লিমিটেডের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট ও বর্তমানে স্টান্ডার্ড ব্যাংক লিমিটেডের নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট ও ম্যানেজার এস এম হেমায়েত উদ্দিনের জামিন বাতিল করে তাকে এক সপ্তাহের মধ্যে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গত বছরের ১১ অক্টোবর ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৮ তাকে জামিন দেন। ওই জামিন বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করে দুদক। শুনানি শেষে হাইকোর্ট জামিন বাতিল করে দেন। প্রায় আট কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মতিঝিল থানায় দুই জনের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক।
এদিকে সিভিল এভিয়েশনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. শহীদুল আফরোজসহ চার কর্মকর্তা ও এক ঠিকাদারকে জামিন দেননি হাইকোর্ট। আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে তাদের কক্সবাজারের বিশেষ জজ আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অপর আসামিরা হলেন নির্বাহী প্রকৌশলী মিহির চাঁদ দে, সাবেক সহকারী প্রকৌশলী ভবেশ চন্দ্র সরকার, কক্সবাজার বিমানবন্দরের সাবেক ব্যবস্থাপক মোঃ হাসান জহির ও ঠিকাদার ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ট্রেডার্সের মালিক মোঃ শাহাবুদ্দিন।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, ক্ষমতার অপব্যবহার করে পরস্পর যোগসাজশে প্রতারণা ও জাল জালিয়াতি করে কক্সবাজার এয়ারপোর্টে টেন্ডার অনুযায়ী জেনারেটর সরবরাহ না করে সাড়ে ষাট লাখ টাকা বিল উত্তোলন করে আত্মসাত্ করায় দুদক গত ৬ জানুয়ারি এ মামলা করে।
এছাড়া সাবেক প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রীর এপিএস সত্যজিত মুখার্জির বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত ২ কোটি ২০ লাখ ৬২ হাজার টাকা সম্পদের অভিযোগে মামলা করে দুদক। ২০০৯ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত এপিএস থাকা অবস্থায় তিনি এ অবৈধ সম্পদ অর্জন করেন বলে রমনা থানায় করা মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়। এ মামলায় আসামিকে স্থায়ী জামিন প্রশ্নে জারিকৃত রুল গতকাল হাইকোর্ট খারিজ করে দিয়েছেন। এখন আসামিকে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করতে হবে বলে জানান ডিএজি মানিক।
