জোড়া গোলে রঙিন সন্ধ্যা

আপডেট : ১৩ নভেম্বর ২০২০, ২১:১০

বাংলাদেশ ২ : ০ নেপাল

সোহেল সারোয়ার চঞ্চল

করোনাকালে এক জন আরেক জনের কাছেও আসতে চায় না। আত্মীয়স্বজন দূরে সরে গেছে। এমন দুনিয়ায় ফুটবল খেলাকে কেন্দ্রে করে করোনা জীবনের ছবিটাই বদলে দিয়েছে বাংলাদেশ-নেপাল প্রীতি ফুটবল ম্যাচ। বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে আন্তর্জাতিক ম্যাচ। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীতে আয়োজিত বাংলাদেশ-নেপালের ম্যাচ ঘিরে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে যেন উত্সবের রঙে রাঙিয়ে তোলা হয়েছিল। ফ্লাড লাইটের উজ্জ্বল আলোয়, গ্যালারিতে দর্শক ভিড়, উচ্চ স্বরে মিউজিক—সব কিছু মিলিয়ে দেড় ঘণ্টার জন্য মানুষের ভেতর থেকে করোনার ভীতি দূর হয়ে গিয়েছিল। কত দিন এমন ফুটবলময় উত্সব দেখেনি দর্শক। প্রায় ১১ মাস আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে দূরে ছিল বাংলাদেশ। কাল এমন ভাবে ফিরল তা স্মরণীয় হয়ে থাকার মতোই এবং  হলোও তাই। বাংলাদেশ ২-০ গোলে নেপালকে হারিয়ে দুই ম্যাচ সিরিজের একটিতে এগিয়ে গেল। পাঁচ বছর পর নেপালকে হারাল বাংলাদেশ।

অন্যান্য সময় ফুটবল ম্যাচে এভাবে দর্শক উপচে পড়ে না। করোনার কারণে কত দিন ঘরের মাঠে ফুটবল খেলা দেখার সুযোগ হয় না। আন্তর্জাতিক ম্যাচের আমন্ত্রণ পেয়ে দর্শক হুমড়ি খেল। আবাহনী গ্যালারিতে জায়গা খালি ছিল না। দুর্দান্ত সূচনা করেছে বাংলার ফুটবলাররা। যাকে নিয়ে স্ট্রাইকিং পজিশন এত সমালোচিত সেই নাবীব নেওয়াজ জীবন অসাধারণ একটি গোল উপহার দিয়েছেন ফুটবল দর্শকদের। রীতিমতো বদনাম ঘোচানোর গোল। জীবনকে নিয়ে টেনশন ছিল। নেপালের রক্ষণভাগ ভেঙে প্রবেশ করতে পারবেন কিনা, তা নিয়ে সংশয় ছিল। কারণ জীবন বহু ম্যাচে ফাঁকা পোস্ট পেয়েও গোল করতে পারেননি। কলকাতায় ভারতের বিপক্ষে বিশ্বকাপ বাছাইয়ের ম্যাচে সব সুযোগ হারিয়েছিলেন নিজের দোষে। সেই জীবন কাল বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে নেপালের জালে যেভাবে বল রাখলেন সেই ছবি ফটো সাংবাদিকেরাও হিমশিম খেলেন। মানিক মোল্লার বল মাঝমাঠে জীবন ঠেলে দিয়েছিলেন ডান দিকে। সাদ উদ্দিন রানিং বল নিয়ে নেপালের দুই ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে বক্সে চললেন। জীবন মাটিয়ে শুয়ে পড়ে ডান পায়ে বলটা কানেক্ট করলেন জালে ১-০। হাজার হাজার দর্শক গোলউল্লাসে ভুলে গেল সামাজিক দূরত্বের কথা। মুখে মাস্ক রাখার বাধ্যবাধকতা। সবাই গোলের আনন্দে মাতোয়ারা হয়ে গেলেন। কী দেখালেন জীবন।

গোল করে এগিয়ে যাওয়া বাংলাদেশের আক্রমণ দেখে মনে হচ্ছিল যে কোনো মুহূর্তে আরো গোল পাবে বাংলার ফুটবলাররা। ইব্রাহিমেদর হেড নেপালের গোলকিপার কিরণ রুখে দিয়েছেন। মানিক মোল্লার শট আবারও সেই গোলকিপার কিরনের হাতে।

দ্বিতীয়ার্ধের খেলার দেখে মনে হচ্ছিল পুরো ৯০ মিনিট খেলার মতো প্রস্তুত না দুই দলের খেলোয়াড়রা। কেমন যেন ঝুলে পড়েছিল খেলা। নেপালের কোচ বাল গোপাল মহারজন এবং বাংলাদেশের ইংলিশ কোচ জেমি ডে খেলোয়াড় পরিবর্তন করতে লাগলেন। পাঁচ জন করে খেলোয়াড় চেঞ্জ করার সুযোগ কাজে লাগিয়েছেন।

পরীক্ষানিরীক্ষা করার জন্যই খেলোয়াড় পরিবর্তন। কারণ ১৭ নভেম্বর দ্বিতীয় ম্যাচ নেপাল-বাংলাদেশের। জেমি ডে অধিনায়ক জামাল ভুইয়াকে তুলে নিয়ে সোহেল রানাকে নামান। এভাবে জীবন, অভিষেক হওয়া পুলিশের ফুটবলার সুম রেজা, মানিক মোল্লা, তপু বর্মনকে মাঠ হতে তুলে নেন। ইয়াসিন খান, সুফিল, বিপলুরা মাঠে নেমে ছবিটা পালটে দিলেন। আক্রমণের তোপে বাংলাদেশের ঘরে দুই-এক বার ঝড় উঠলেও তা নিভতেও সময় লাগেনি। ৮১ মিনিটে সুফিল ঝড়ে নেপাল দ্বিতীয় গোল হজম করে ২-০। তেড়েফুড়ে নেপালের বক্সে ঢুকে গোলকিপারের ডান দিক দিয়ে দর্শনীয় গোল করেন সুফিল।