খালিয়াজুরী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

বিকল এক্সরে মেশিন অচল ওটি

আপডেট : ১৩ নভেম্বর ২০২০, ২১:১৬

খালিয়াজুরী (নেত্রকোনা) সংবাদদাতা 

৩১ শয্যাবিশিষ্ট খালিয়াজুরী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। খালিয়াজুরী উপজেলায় সরকারি এ হাসপাতালটি ছাড়া বেসরকারি অন্য কোনো হাসপাতাল, ক্লিনিক কিংবা চিকিত্সালয় নেই। স্বাস্থ্যসেবার একমাত্র ভরসাস্থল ঐ কমপ্লেক্সটিতে বিশেষজ্ঞ ডাক্তার পাওয়া তো দূরের কথা এখানে রোগ শনাক্তের জন্য নেই সামান্য পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থাও। এক্সরে এবং প্যাথলজি বিভাগও বন্ধ। ৫০ টাকার রক্ত পরীক্ষার জন্য ৫০০ টাকা খরচ করে জেলা সদরে যেতে হয়।

খালিয়াজুরী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সিনিয়র স্টাফ নার্স কেয়া জাম্বির জানান, বিগত এক সপ্তাহে এখানে প্রতিদিন গড়ে মাত্র চার জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত এ হাসপাতালে ভর্তিকৃত মোট রোগী ছিলেন ১২ জন। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভারপ্রাপ্ত পরিসংখ্যানবিদ রফিকুল ইসলাম জানান, হাসপাতালটিতে ডাক্তার, নার্স ও কর্মচারীদের ১৩০টি পদের মধ্যে মাত্র ৫৫টি পদে লোক রয়েছে। এর মধ্যে সাত জন অন্যত্র রয়েছেন প্রেশনে। বিশেষ করে এখানে গাইনি, সার্জারি, মেডিসিন ও অ্যানেসথেসিয়া বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের চারটি পদ থাকলেও এসব পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য। তাছাড়া শূন্য রয়েছে আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার এবং ডেন্টাল সার্জন পদও। মেডিক্যাল অফিসারের দুটি পদের মধ্যে আছে মাত্র একজন।

মেডিক্যাল অ্যাসিস্টেন্ট দুটি পদের দুটিই খালি। রেডিওগ্রাফার পদেও নেই কেউ। এখানকার এক্সরে মেশিনটি বিকল। ১০ বছর আগে মেশিনটি স্থাপন হলেও তা চালু হয়নি কখনো। ল্যাব টেকনিশিয়ান পদ দুটি শূন্য। অপারেশন থিয়েটারটিও (ওটি) অচল রয়েছে যন্ত্রপাতি এবং ব্লাড ব্যাংকের অভাবে। সিজারিয়ান অপারেশনের ব্যবস্থা না থাকায় খালিয়াজুরীতে মাতৃমৃত্যুর হার অন্যান্য উপজেলা থেকে অনেক বেশি বলে স্থানীয়দের অভিমত।

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আতাউল গণী উসমানী জানান, হাসপাতালের প্রতিটি সংকটের কথাই মাসিক ও বিশেষ প্রতিবেদনের মাধ্যমে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হচ্ছে। বর্তমানে এ হাসপাতালকে ৫০ শয্যায় উন্নীতকরণের কাজ চলছে। হাসপাতালটি ৫০ শয্যার হলেই এখানে চিকিত্সাসেবার মান বহুগুণে বাড়বে।