মোহাম্মদ মহসীন
প্রবাসজীবন বড়ই দুখের, তা নারী কিংবা পুরুষের বেলায়ও। আমি লিখব বলে এলাকা ছেড়েও গাঁও-গ্রামের চেনা-অচেনা অনেক বাড়িতে গিয়েছি। দেখেছি, এক থেকে তিনজনও অর্থ উপার্জনের জন্য বিদেশে দিন কাটাচ্ছে। কেউ সপরিবারে কেউবা একা।
গাঁও-গ্রামের অসচ্ছল মানুষের সামান্য আয় দিয়ে মা-বাবা, স্ত্রী, পুত্রকন্যা সন্তানের ভরণ-পোষণ এবং নানা চাহিদা রক্ষা করা কষ্টকর। দিনমজুরের কাজ করে কখনো ভাগ্যের চাকা ঘোরানো যায় না। আট-দশ জনের দুবেলা দুমুঠো ভাত জোগাড় করা কষ্টদায়ক। ‘পেটে দিলে পিঠে সয়’ যার নেই, সে-ই বোঝে তার জ্বালা-যন্ত্রণা। এ কাতারে সবাই নয়। সুখের আশায় বাড়িঘর, সহায়-সম্বল হাতছাড়া করে সংসার মোহ ছেড়ে মনে ও বুকে পাথর এঁটে কেউ কেউ পাড়ি জমায় বিদেশ-বিভূঁইয়ে। ওখানেও কারো আশা পূরণ হয়। আবার ছদ্মবেশী অমায়, বালুচরের খেলাঘরে আটকিয়ে যায়। তখন খালি হাতে ফিরতে হয় নিজ গন্তব্যে। এখানে এসেও মন বসে না কাজে...। এ বিষয়ে নারী ও পুরুষ উভয়ের সঙ্গে কথা হয়। আশা আর নিরাশার গল্প শুনেছি...।
এক নারীর সঙ্গে কথা হয়েছে; যার বিয়ে হয়েছে ছোটবেলা। বিয়ের কিছুদিন পর স্বামী বিদেশে চলে যায়। এরপর নিজ জন্মভূমিতে ফেরে দুবার। তাও এক যুগ পর ছুটি নিয়ে বাড়ি ফিরে সপরিবারে কিছুদিন কেটেছে। বয়সের ছাপ লেগে যাচ্ছে। আর ভালো লাগে না..., ইচ্ছে জাগে কাছে পেতে! বুকভরা লুকানো আর্তনাদ ও চাহনি...কী করে বোঝাবে স্বামীকে। ইমুতে যোগাযোগ হলে, বারবার স্বামীকে তাগিদ দিয়েছে বাড়ি ফিরতে; স্বামী বলেছে, ‘আসব। মাস গেলে ষাট হাজার টাকা পাই। তুমি কি তা দিবা?’ দু কূলে দুজনেরই ভাবনায় দিনক্ষণ কাটে। তখনই ঘরে-বাইরে লোকসমাজে ঘটে নানা সমস্যা...। তা পত্রপত্রিকাতেও খবর হয় কখনো।
আর এমনিতেই কুঁড়েঘরের ছেলেমেয়ে সুন্দর হয়। মেয়েসন্তান যখন বড় হয়, স্কুল-কলেজে যখন পড়াশোনা করে, তখন স্ত্রী রাখাল হলেও অনেক সময় দুষ্ট লোকের হাতে মা-মেয়ে উভয়কেই অপমান সহ্য করে চলতে হয়। ‘মা দশটি সন্তান লালন পালন করতে পারে, বাবা পারে না একটিও।’ তাও দেখে আসছি।
নারীকে তার যথাযথ সম্মানের আসনে বসাতে হলে পুরুষের যেমন নারীর প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি থাকতে হবে, তেমনি নারীকেও পুরুষের প্রতি মর্যাদা লালন করতে হবে। এমন কিছু কখনো করা যাবে না যাতে দু’জনের মধ্যে পারস্পরিক বিশ্বাস নষ্ট হয়। স্ত্রী তার স্বামীকে কাছে টানতে দুটি সূত্র যেমন লাজুকতা ও সরলতার মন্ত্র সব সময় লালন করতে হবে। আর স্বামীর অবহেলা একজন স্ত্রীকে দুনিয়ায় সবচেয়ে বেশি অসহায় করে তোলে। তখন ত্রিভুবনের সব সুখ এনে দিলেও স্ত্রী তার স্বামীর মাঝেই সীমাবদ্ধ থাকে না। কিন্তু এটা অনেক স্বামী বোঝে না। এছাড়া স্ত্রীর অসুস্থতায় স্বামীর মন নরম ও কাতর হয় না অনেক ক্ষেত্রে। আর প্রত্যেকের মনে রাখা দরকার, নারী-পুরুষ একে অপরের ওপর নির্ভরশীল। তবে নারীর পক্ষে একা সব দায়িত্ব বহন করা মোটেও সম্ভব নয়। তাহলে উপার্জনকারীর আবদার নারীর ক্ষেত্রে অনেকটাই নেতিবাচক হতে সময় নেবে না। সংসার মায়াময়, দূরে নয়, কাছে এসে ভালোবাসা দিয়ে পরিবেশ তৈরি করে সুন্দর জীবন ঘটাতে হয়...।
নারায়ণগঞ্জ
