সেতুর দাবি পূরণ হয়নি চার দশকেও

আপডেট : ১৩ নভেম্বর ২০২০, ২১:৪৮

শহিদুল ইসলাম সুজন, মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি

মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার বানিয়াজুরী-বাঠুইমুড়ি বেড়িবাঁধের পাঁচ কিলোমিটারের মধ্যে নেই কোনো পাকা সেতু। বেড়িবাঁধের তাড়াইল, নয়াচর ও বানিয়াজুরী অংশে পানি প্রবাহের জন্য ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ফলে বছরের প্রায় ছয় মাস তিনটি স্থানে পানি থাকে। অথচ বাঁধ নির্মাণের দীর্ঘ ৪৫ বছরেও সেখানে সেতু নির্মাণে এগিয়ে আসেনি কর্তৃপক্ষ। তাই পারাপারের জন্য বর্ষা মৌসুমে বাঁশের সেতু অথবা খেয়া নৌকাই এলাকাবাসীর ভরসা। এলাকাবাসীর দাবি তিনটি সেতু নির্মাণ করা হলে জেলার হরিরামপুর, ঘিওর, দৌলতপুর, শিবালয় ও মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার সঙ্গে যোগাযোগ সহজ হতো। দীর্ঘদিন সেতু নির্মাণের আশ্বাসের বাণী শোনা গেলেও আজও তা বাস্তবায়ন হয়নি। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, এই অর্থবছরেই সেতু তিনটি নির্মাণ করা হবে। সব আয়োজন শেষ। এখন শুধু টেন্ডারের অপেক্ষা।

তাড়াইল অংশের বাঁধের ওপরে প্রায় ১৫-১৬ বছর ধরে ছোট ছাপড়া ঘর তুলে ৭৫ বছরের বৃদ্ধ রাজু খান চায়ের দোকান করছেন। তিনি নিজ চোখে দেখে যাচ্ছেন মানুষের দুর্ভোগ। বলেন, ‘এক সময় জেলার ঐহিত্যবাহী ঝিটকা হাটে যাতায়াতের অন্যতম রাস্তা ছিল বানিয়াজুরী-বাঠুইমুড়ি বেড়িবাঁধটি। বিশেষ করে ঘিওর, দৌলতপুর, শিবালয় এমনকি অন্যসব জেলার মানুষ এই বেড়িবাঁধ ব্যবহার করে ঝিটকা হাটে আসা-যাওয়া করতো। কিন্তু বর্তমানে বেড়িবাঁধের কারণে যোগাযোগ ব্যবস্থা এতোই নাজুক হয়ে পড়েছে যে সামান্য বৃষ্টি হলেই অচল হয়ে পড়ে মানুষের যাতায়াত। আর বর্ষার সময় বাঁধের তাড়াইল, নয়াচর ও বানিয়াজুরী অংশের পানি প্রবাহের তিনটি জায়গা পানিতে তলিয়ে থাকায় প্রায় ছয় মাস মানুষের দুর্ভোগের সীমা থাকে না। তিনটি সেতু নির্মাণ করা হলে হাজার হাজার মানুষের দুর্ভোগ থাকবে না।’ ঘিওর উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী সাজ্জাকুর রহমান বলেন, ‘বানিয়াজুরী-বাঠুইমুড়ি বেড়িবাঁধে তিনটি সেতুর অনুমোদন আমরা পেয়েছি। সয়েল টেস্ট করার পর ডিজাইন ও সেতু নির্মাণের বাজেট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। আশা করছি, চলতি মাসেই টেন্ডার হবে। আশা করি, এই অর্থবছরেই সেতু তিনটির কাজ শুরু হবে।