পর্যাপ্ত জনবল ও ইকুপমেন্ট সংকটে নগরীতে চসিকের ময়লা-আবর্জনা অপসারণ কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এই সুযোগে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় বাণিজ্যিক ভিত্তিতে ‘সিন্ডিকেট’ করে বাসাবাড়ি থেকে ময়লা সংগ্রহ করছে। এতে ময়লা অপসারণের জন্য নগরবাসীকে টাকা দিতে হচ্ছে। এলাকাভিত্তিক গড়ে ওঠা সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে নগরবাসী। সিটি করপোরেশন ডোর টু ডোর ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কারের কথা বলা হলেও অধিকাংশ নগরবাসী এই সেবা পাচ্ছে না। পাড়া-মহল্লায় ডাস্টবিন সংকটে যত্রতত্রভাবে ময়লা-আবর্জনা ফেলে রাখা হচ্ছে। প্রতিদিনই ময়লা-আবর্জনা অপসারণ হচ্ছে না বলে চসিকে শতাধিক অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নগরীতে প্রতিদিন প্রায় ২৪০০ থেকে ২৫০০ টন আবর্জনা জমা হয়। নগরে মানুষের বসবাস বাড়ার কারণে আবর্জনাও বাড়ছে। কিন্তু নগরবাসীর বাসা থেকে আবর্জনা সংগ্রহ করে অপসারণের মতো সক্ষমতা চসিকের নেই। এই খাতে জনবল ও ইকুপমেন্ট স্বল্পতায় পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। সম্প্রতি সময়ে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় বাণিজ্যিক ভিত্তিতে বাসাবাড়ি থেকে আবর্জনা সংগ্রহ শুরু করেছে একটি চক্র। তারা প্রতিটি ভবনের প্রতিটি ভাড়াটিয়ার নিকট থেকে মাসে ১০০ থেকে ২০০ টাকা আদায় করছে। টাকা না দিলে আবর্জনা নেওয়া হচ্ছে না।
নগরীর শাহওয়ালি উল্লাহ আবাসিক এলাকার বাসিন্দা নাজিম উদ্দিন জানান, তাকে প্রতি মাসে বাসার আবর্জনা অপসারণের জন্য ১০০ টাকা করে দিতে হচ্ছে। বাসার আশপাশে চসিকের কোনো ডাস্টবিন নেই। বাড়ির মালিকও ময়লার ফেলার কোনো ব্যবস্থা করেনি। কিছু লোক বাসা থেকে আবর্জনা সংগ্রহ করে নিচ্ছে। শুলকবহর এলাকার বাসিন্দা ব্যাংকার নুর মোহাম্মদ জানান, চসিকে কোনো লোক তাদের আবর্জনা সংগ্রহ করে না। স্থানীয় কিছু লোক বাসা থেকে আবর্জনা সংগ্রহ করে নিয়ে যাচ্ছে। এই জন্য মাসে ১২০ টাকা করে দিতে হচ্ছে।
চসিক সূত্র জানায়, চসিকের ময়লা-আবর্জনা অপসারণ কার্যক্রমে ভঙ্গুর অবস্থা বিরাজ করছে। নগরীর পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন কাজের জন্য কমপক্ষে সাড়ে ৩ হাজার জনবলের প্রয়োজন। কিন্তু বর্তমানে ১৩০০-১৪০০ লোক দিয়ে এই কাজ করতে হচ্ছে। পরিচ্ছন্নতা কাজের জন্য প্রায় ১৭০০ স্থায়ী জনবল ছিল। বর্তমানে অবসরে যাওয়ার পর ৭০০ জনের মতো স্থায়ী লোক রয়েছে। পাড়া-মহল্লায় ডাস্টবিন স্থাপনার জন্য কেউ জায়গা দিচ্ছে না। বাড়ির সামনে স্থাপিত অনেক ডাস্টবিন ভেঙে ফেলা হয়েছে। মানুষ ময়লা ফেলতে ডাস্টবিন না পাওয়ায় যেখানে-সেখানে ফেলে রাখছে।
বিগত মেয়রের আমলে ডোর টু ডোর ময়লা সংগ্রহের জন্য কার্যক্রম চালু করেছিলেন। এই খাতে অস্থায়ী ভিত্তিতে জনবলও নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। প্রতিটি বাসাবাড়িতে আবর্জনা রাখার জন্য একটি করে বিম দেওয়া হয়েছিল। করপোরেশন ১২০০ কোটি টাকা দেনার দায় নিয়ে ডুবে আছে। মাসে ডোর টু ডোর শ্রমিকদের বেতন খাতে কর্পোরেশনের ২ কোটি ৪০ লাখ টাকা ব্যয় হচ্ছে। কিন্তু ডোর টু ডোর আবর্জনা সংগ্রহ কাজের জন্য যে পরিমাণ জনবল ও ইকুপমেন্ট প্রয়োজন তার কোনো ব্যবস্থা করা হয়নি। এই কাজের জন্য কমপক্ষে ২ হাজার ভ্যানের প্রয়োজন। ভ্যান আছে প্রায় সাড়ে ৩০০।
