শীতের সবজিতেও স্বস্তি ফেরেনি বাজারে

আপডেট : ১৩ নভেম্বর ২০২০, ২২:২০

রাজধানীর বাজারে শীতকালীন সবজি আসতে শুরু করেছে। কিন্তু দাম চড়া। শুধু শীতকালীন সবজিই নয়, এ বছর অন্য সবজির দামও বলতে গেলে স্বল্প আয়ের মানুষের নাগালের বাইরে। ফলে করোনা সংকটকালে রীতিমতো বিপাকে পড়েছেন ভোক্তারা।

গতকাল শুক্রবার কাওরানবাজার, শান্তিনগর ও মহাখালী কাঁচাবাজারে খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, দোকানিরা ফুলকপি ও বাঁধাকপি থরে থরে সাজিয়ে রেখেছেন। উঠেছে শিম, শালগম, নতুন আলু ও লাউ। কিন্তু দাম বেশি। আকারে ছোট ছোট এসব ফুলকপি ও বাঁধাকপির দাম ৩৫ থেকে ৫০ টাকা। আর শিমের কেজি ১০০ থেকে ১২০ টাকা। এছাড়া ৫০ টাকার নিচে কোনো ধরনের সবজি নেই বললেই চলে। অথচ গত বছরও এ সময় শীতকালীন সবজি বাদে অন্যান্য সবজি ৩০ থেকে ৪০ টাকার মধ্যে পাওয়া যেত।

কিন্তু এ বছর সবজির দাম এত বেশি কেন? কিংবা দাম এখনো কমছে না কেন? এই প্রশ্ন ক্রেতাদের। ব্যবসায়ীরা বলেছেন, আগাম শীতকালীন সবজির চাহিদা সব সময় বেশি থাকে। যে কারণে দামও থাকে চড়া। কিন্তু অন্য সবজির দাম তুলনামূলক কম থাকে। তবে এবার দেশে চার দফা বন্যা ও অতিবৃষ্টির কারণে সবজির আবাদ মার খাওয়ায় সব ধরনের সবজির দামই বেশি। তারা বলেন, বাজারে পুরোদমে শীতকালীন সবজি আসতে শুরু করলে দাম কমবে।

এদিকে বাজারভেদে সবজির দামে বেশ তারতম্য দেখা যায়। বিশেষ করে রাজধানীর কাওরানবাজারের সঙ্গে অন্যান্য বাজারের সবজির দামে বেশ পার্থক্য রয়েছে। সবজি বিক্রেতা নাজমুল হোসেন বলেন, কাওরানবাজার হচ্ছে রাজধানীর অন্যতম বড় পাইকারি সবজি বাজার। এই বাজার থেকে সবজি কিনে আবার এখানেই খুচরা দরে বিক্রি করলে পরিবহন খরচ লাগে না। এছাড়া সুযোগ বুঝে কিছুটা কম দামেও সবজি কেনা যায়। যে কারণে অন্য বাজারের তুলনায় তুলনামূলকভাবে কম দামে সবজি পাওয়া যায়।

গতকাল বাজারে বিভিন্ন ধরনের সবজির মধ্যে নতুন আলু ১২০ থেকে ১৪০ টাকা, কাঁকরোল, ঢ্যাঁড়শ, ঝিঙা, চিচিঙ্গা ৬০ থেকে ৭০ টাকা, পটোল, শসা ৫০ থেকে ৬০ টাকা, আমদানিকৃত টম্যাটো ১০০ থেকে ১১০ টাকা, মানভেদে করলা ৬০ থেকে ৮০ টাকা, বেগুন, বরবটি ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়। মাঝেমধ্যে গাজরের দাম কিছুটা কমলেও আবার বেড়েছে। গতকাল বাজারে প্রতি কেজি গাজর বিক্রি হয় ৮০ টাকায়। এছাড়া প্রতিটি লাউ আকারভেদে ৬০ থেকে ৭০ টাকা বিক্রি হতে দেখা গেছে।

এদিকে খুচরা বাজারে প্রতি কেজি পুরোনো আলুর দাম সরকার ৩৫ টাকা নির্ধারণ করে দিলেও কোনো বাজারেই এ দরে আলু বিক্রি হতে দেখা যায়নি। বাজারে পুরোনো আলু বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজিতে। তবে পেঁয়াজের দাম গত সপ্তাহের তুলনায় কিছুটা কমেছে। দেশি পেঁয়াজ কেজিতে ১০ টাকা কমে ৭০ থেকে ৮০ টাকা ও আমদানিকৃত পেঁয়াজ ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। আমদানিকৃত রসুন ১০০ থেকে ১২০ টাকা ও দেশি রসুন ১২০ থেকে ১৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। খুচরা বাজারে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ১৬০ টাকায়।

এদিকে সবজির চড়া দামের পাশাপাশি দাম বেড়েছে চাল, পামঅয়েল ও মসুর ডালের। নাজিরশাইল ও মিনিকেট চাল কেজিতে দুই টাকা বেড়ে ৫৪ থেকে ৬২ টাকা বিক্রি হয়। এছাড়া মাঝারিমানের চাল পাইজাম/লতা ৪৮ থেকে ৫৬ টাকা ও মোটা চাল স্বর্ণা ৪৫ থেকে ৪৮ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়। আর খোলা পামসুপার লিটারে দুই টাকা বেড়ে ৯২ থেকে ৯৪ টাকা ও সয়াবিন ৯৫ থেকে ৯৮ টাকা লিটার দরে বিক্রি হয়। দাম বেড়েছে মাঝারিমানের মসুর ডালের। কেজিতে পাঁচ টাকা বেড়ে ৮৫ থেকে ৯০ টাকা বিক্রি হয়। এছাড়া ছোটদানা মসুর ডাল ১০৫ থেকে ১২০ টাকা ও বড়দানা মসুর ডাল ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়।