গল্প-কথায় পদার্থবিজ্ঞান রবীন্দ্রনাথ ও আইনস্টাইন

আপডেট : ১৪ নভেম্বর ২০২০, ১৯:১৫

মাধব রায়

সহকারী অধ্যাপক (পদার্থবিজ্ঞান)

ব্লু বার্ড হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ, সিলেট

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক তানভীর মাহতাব সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিলেবাস কমিটির মিটিংএ যোগ দিতে এবং মাস্টার্সের ফাইন্যাল পরীক্ষার প্রশ্ন মডারেশন এর কাজে সিলেট এসেছিলেন। তিনি জার্মানির কার্ল মার্কস ইউনিভার্সিটি থেকে পিএইচডি করেছেন। সিলেটে তাঁর সাথে স্ত্রী আফরা আনজুমও ছিলেন। আফরা আনজুম একটা স্কুলের শিক্ষক। মাধ্যমিক পর্যায়ে পদার্থবিজ্ঞান পড়ান। তাঁরা দুজনই চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদার্থবিজ্ঞানে অনার্স মাস্টার্স কমপ্লিট করেছেন। তারপর আফরা আনজুম আর পড়াশুনা করেননি। তাঁরা সিলেট এসে নীলকান্তবাবুর বাসায় থাকলেন। নীলকান্তবাবু তানভীর সাহেবের ক্লাসমেট। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে একসাথে পদার্থবিজ্ঞান পড়েছেন। কটাদিন বেশ আনন্দের সাথেই কেটেছে। নীলকান্তবাবুর স্ত্রী কমলার হাতের রান্না খুব চমত্কার। তানভীর সাহেব সস্ত্রীক যে কয়দিন থেকেছেন-রন্ধনশৈলীতে মুগ্ধ থেকেছেন। কমলা আবার কমার্স গ্র্যাজুয়েট। তিনি বিজ্ঞানের মারপ্যাচ, বিশেষ করে পদার্থবিজ্ঞানের মতো কঠিন বিষয়ের ইকুয়েশনগুলো বেশ ভয়ের চোখেই দেখেন। এর পরেও বিজ্ঞানের প্রতি তাঁর যথেষ্ট আগ্রহ রয়েছে। গল্প-কথায় পদার্থবিজ্ঞান নিয়ে আলোচনা শুরু হলেই তিনিও এসে যোগ দেন, এটা-সেটা প্রশ্ন করে উত্তর জানতে চেষ্টা করেন।

নীলকান্তবাবু এবং কমলার পাঁচ ছেলেমেয়ে। বিন্দু, রেখা, কণিকা, সীমা, অণু। বিন্দু ছোট মেয়ে, একটু চঞ্চল। বেশিক্ষণ এক জায়গায় বসতে পারে না, কিন্তু পড়াশুনায় ভালো। সে বিজ্ঞানের গল্পের চেয়ে অন্য গল্প বেশি পছন্দ করে। বিশেষ করে রূপকথার রাক্ষস-খোক্ষসের গল্প। বড় হয়ে সে একজন লেখক হবে, তার ইচ্ছা।

কণিকা, সীমা, অণু, রেখা এরা সবাই বিজ্ঞানের ভক্ত। বিজ্ঞানের গল্প শুনলে বলতে গেলে এক পায়ে খাড়া। তানভীর মাহতাব আর আফরা আনজুমকে তো কয়েকটা দিন ওরা ছাড়েইনি। সারাটা দিন পদার্থবিজ্ঞানের গল্প। আর এঁরাও ক্ষুদে বিজ্ঞানীদেরকে গল্প শোনাতে পেরে আনন্দিত। রেখার আবার গানের গলা চমত্কার, বিশেষ করে রবীন্দ্রসঙ্গীত। নীলকান্তবাবুর বোনের ছেলেমেয়ে আকাশ আর চন্দ্রাও বেড়াতে এসেছে চট্টগ্রাম থেকে। আকাশ খুব মেধাবি ছেলে।

গত ৫,৬ ও ৭ নভেম্বর ২০১৯ সিলেটবাসী মহা উত্সাহ, আনন্দ ও ধুমধামের সাথে একটা উত্সব পালন করল। ঠিক একশ বছর আগে১৯১৯ সালের ৫ নভেম্বর কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সিলেট এসেছিলেন এবং ৬ ও ৭ নভেম্বর পর্যন্ত ছিলেন। তিন দিনে তিনি সিলেটের মানুষজন কর্তৃক শ্রদ্ধাভরে অভিনন্দিত ও অভিষিক্ত হয়েছিলেন। এর ঠিক একশ বছর পর ২০১৯ খ্রিস্টাব্দে সিলেটের বর্তমান প্রজন্ম এটি স্মরণ করে আনন্দে মাতোয়ারা হয়।

অনুষ্ঠানমালাও চমত্কারভাবে সাজানো হয়। রবীন্দ্রনাথ যেখানে যেখানে গিয়েছিলেন, ঠিক সেখানে সেখানে সেভাবে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানগুলোর মধ্যে ছিল ৫ নভেম্বর মঙ্গলবার শ্রীহট্ট ব্রাহ্মসমাজ আয়োজিত ব্রাহ্মমন্দিরে রবীন্দ্রনাথ, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে কিনব্রিজ প্রাঙ্গন থেকে শোভাযাত্রা, রবীন্দ্রনাথের ম্যুরাল উন্মোচন, বিকাল চারটা থেকে অর্ধসহস্রাধিক শিল্পীর পরিবেশনায় নৃত্য, আবৃত্তি ও সঙ্গীত। ৬ নভেম্বর ২০১৯ ছিল মাছিমপুরে রবীন্দ্রনাথ, সিংহবাড়িতে রবীন্দ্রনাথ, শোভাযাত্রা, আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, মুরারিচাঁদ কলেজে রবীন্দ্রনাথ, ম্যুরাল উদ্বোধন, ৭ নভেম্বর ২০১৯ ছিল ‘রবীন্দ্রনাথ ও বাংলাদেশ’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সেমিনার, দুইদিনব্যাপী আলোকচিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন, সম্মেলন আবৃত্তি, দলীয় ও একক নৃত্য, দেশবিদেশের অনেক বিখ্যাত শিল্পীদের এবং নবীন শিল্পীদের পরিবেশনা। ৮ নভেম্বর ২০১৯ শুক্রবার বিকেল চারটায় সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে বাংলাদেশের বর্তমান ও সাবেক কয়েকজন মন্ত্রি ও এমপিদের অতিথি করে অনুষ্ঠান। এতেও দেশ বিদেশের বরেণ্য শিল্পীদের পরিবেশনা ছিল। ভারতের শিল্পীদের মধ্যে ছিলেন ড. পূবালী দেবনাথ, শুভপ্রসাদ নন্দী মজুমদার, জয়তী চক্রবর্তী, সাহেব  চট্টোপাধ্যায়, মেধা বন্দ্যোপাধ্যায়, পদ্মশ্রী পূর্ণদাস বাউল, অগ্নিভ বন্দোপাধ্যায়। বাংলাদেশ থেকে ছিলেন-রাণাকুমার সিনহা, সুমনা আজিজ, প্রতীক এন্দ, অনিমেষ বিজয় চৌধুরী, আসাদুজ্জামান নূর, রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা, লাইসা আহমেদ লিসা, ড. অনুপম কুমার পাল, ড. অসীম দত্ত, রেখাসহ অন্যান্যরা তো ছিলই। এ উপলক্ষে একটি স্মরণিকাও প্রকাশ করা হয়।                 পরের অংশ আগামীকাল