ফিরে দেখা

কুপি বাতি ও হারিকেন

আপডেট : ১৪ নভেম্বর ২০২০, ১৯:১৬

 

পল্লীবিদ্যুত্ ও সৌর বিদ্যুতের যুগে কুপি বাতি ও হারিকেন এখন শুধুই স্মৃতি!

কুপি বাতি ও হারিকেন ছিল বাহারি নকশার। সারা দিনের কর্মব্যস্ততা সেরে সাঁঝের বেলায় নারীরা ঘরের আলো জ্বালাতে ব্যস্ত হতেন। হারিকেনের চিমনি খুলে, ধুয়ে-মুছে পরিষ্কার করতেন। ছিপি খুলে কেরোসিন তেল ঢেলে আবার ছিপি লাগিয়ে রেশার মধ্যে দিয়াশলাইয়ের কাঠি জ্বালিয়ে আগুন ধরিয়ে তা নির্দিষ্ট সীমারেখায় রাখতেন। ৫-৬ ইঞ্চি লম্বা এক ধরনের কাপড় রেশা হিসেবে ব্যবহার করা হতো। হারিকেনের আলো কমানো ও বাড়ানোর জন্য থাকত একটি নব। তা ঘুরিয়ে আলো কমানো ও বাড়ানো যেত। রাতে ঘুমানোর সময় আলো কমিয়ে সারা রাত হারিকেন জ্বালিয়ে রাখা হতো।

কুপি বাতি ছিল মাটি, সিলভার, টিন, লোহা, কাচের বোতল আবার পিতলের তৈরি। তবে সিলভার, টিন এবং মাটির তৈরি বাতির ব্যবহার ছিল বেশি। একনলা, দুইনলা, একতাক, দুইতাকসহ নানা রকম। বাতির নলে আগুন জ্বালানোর জন্য রেশা হিসেবে ব্যবহার করা হতো ছেঁড়া কাপড়ের টুকরো কিংবা পাটের সুতলি। চিকন আর ৫-৬ ইঞ্চি দৈর্ঘ্যের ঐ রেশা, বাতির নল দিয়ে ভেতরে ঢুকিয়ে দেওয়া হতো। প্রতিদিন এর কিছু অংশ জ্বলে পুড়ে যেত। ফের পরের দিন আবার একটু ওপরের দিকে তুলে দিতে হতো।

কুপি বাতি বা হারিকেনে হাটবাজারের বেচাকেনা থেকে শুরু করে পড়াশোনা, রান্নাবান্না, খাওয়া, রাতে চলাফেরা সবই হতো।