হা হা হো হো

আপডেট : ১৪ নভেম্বর ২০২০, ১৯:১৭

একদিন সম্রাট আকবর বীরবলের সঙ্গে গল্প করতে করতে অস্বাভাবিক একটা প্রশ্ন করে বসলেন, ‘আচ্ছা বীরবল, তুমি কি বলতে পার—আমার হাতের তালুতে কোনো লোম নেই কেন?’

বীরবল ত্বরিত্ উত্তর দিলেন, ‘জাঁহাপনা, আপনি প্রতিদিন কত লোককে কত দান-খয়রাত করছেন। আর দান-খয়রাত করার সঙ্গে সঙ্গে আপনি আত্মতৃপ্তিতে এক হাতের তালুতে অন্য হাতের তালু রেখে হাত রগড়েছেন। সেই করণেই আপনার হাতের তালুতে লোম গজায়নি।’

সম্রাট আকবর বললেন, ‘কিন্তু বীরবল, তোমার হাতের তালুতে লোম না গজানোর কারণ কী তাহলে?’

বীরবল হাসিমুখেই উত্তর দিলেন, ‘আমিও তো আপনার কাছ থেকে জীবনে কত কত দান গ্রহণ করেছি, সেসব কথা তো আর আপনার মনে থাকার কথা নয়। যতবার আপনার কাছ থেকে দান পেয়েছি, ততবারই আনন্দে আত্মহারা হয়ে আমি হাত রগড়েছি। সে কারণেই আমার হাতের তালুতেও লোম গজায়নি।’

‘বেশ’ আকবর বেশ গম্ভীর হয়েই বললেন, ‘তোমার আর আমার হাতের তালুতে চুল না গজানোর কারণ তো ভালোই বুঝিয়ে দিলে। কিন্তু অন্যান্য সভাসদের তো হাতের তালুতে লোম গজানোর কথা। তারা দান-খয়রাত করেনি, দান গ্রহণ করার সুযোগও পায়নি কখনো।

‘জাঁহাপনা’ বীরবল বললেন, ‘আপনি তো জানেনই—এই সভাসদেরা আমার প্রতি ঈর্ষাপরায়ণ। আপনার দান আমি যতবারই গ্রহণ করেছি, ততবারই তারা হিংসার আগুনে পুড়ে হাত রগড়েছে। এত রগড়ারগড়িতে তাদের হাতের তালুতে লোম ওঠে কী করে বলুন!’