পাঁচ বছর আগে ইসলামিক স্টেটের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বন্দুকধারীদের হামলায় প্যারিসে ১৩০ জন নিহত হয়| আর আহত হয় ছয় শতাধিক মানুষ| প্যারিসে হামলার ঠিক পাঁচ বছর পর এই দিনে সন্ত্রাস দমন নিয়ে আলোচনায় বসলেন ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের অভ্যন্তরীণ মন্ত্রীরা| প্রকাশ করলেন এ বিষয়ে একটি যুগ্ম বিবৃতি|
যদিও কথা ছিল ইইউর সার্বিক অভিবাসন ও রাজনৈতিক আশ্রয়নীতি নিয়েই আলোচনা করবেন তারা, কিন্তু কথায় কথায় আলোচনার মোড় ঘুরে যায়| উঠে আসে ইউরোপে সশস্ত্র ইসলামিস্ট গোষ্ঠীদের নিয়ন্ত্রণের প্রসঙ্গ| বিবৃতিতে মন্ত্রীরা বলেন, ‘আমাদের ক্ষমতার সবটুকু ব্যবহার করে এই নৃশংস সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে আমরা একসঙ্গে লড়ব|’ জোর দেওয়া হয় ইন্টারনেটে ইসলামিস্টদের প্রোপাগান্ডা নজরদারি, সীমান্তে কড়াকড়ি বাড়ানো এবং তথ্য ভাগাভাগি করে নেওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে| জার্মান অভ্যন্তরীণ মন্ত্রী হর্স্ট জেহোফার এই বিবৃতিকে আশার আলো হিসেবে দেখছেন| তার মতে, ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের সদস্যরাষ্ট্রগুলো একজোট হলে ইউরোপ ‘সুপারপাওয়ার’ হতে পারবে| মন্ত্রীরা যে কয়টি পরিকল্পনার কথা বলেছেন, তার কয়েকটি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সমস্যা দেখা দিতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে| এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ব্যক্তিগত অনলাইন কথোপকথনে কর্তৃপক্ষের নজরদারির বিষয়টি|
জার্মান মন্ত্রী জেহোফার নিরাপত্তার খাতিরে এ ধরনের নজরদারিতে সায় দিয়েছেন| সাম্প্রতিক সময়ে জানা গেছে যে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের সদস্যরাষ্ট্রগুলো ইতিমধ্যে হোয়াটসঅ্যাপের মতো চ্যাটিং অ্যাপগুলোর ওপর নজরদারি বাড়াতে চাইছে| কিন্তু এই চিন্তার বিরোধিতাও এর মধ্যে দেখা গেছে জার্মান রাজনৈতিক মহলে| জার্মান পাইরেট পার্টির প্যাট্রিক ব্রেয়ার (যিনি ইউরোপিয়ান পার্লামেন্টের সদস্য) বলেন, ‘কয়েক জন যারা এই প্রযুক্তির অপব্যবহার করছে, তাদের জন্য যারা প্রযুক্তির অপব্যবহার করছে না, তাদেরও এই প্রযুক্তি থেকে আমরা বঞ্চিত করব কি না, সেটা ঠিক করতে হবে| নাকি আমরা বলব যে নিরাপদ কথোপকথনই আমাদের সমাজের জন্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ|’
সন্ত্রাসবাদ সূচকে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশের তালিকার শীর্ষে রয়েছে ইরাক| তবে ইরাকে সন্ত্রাসী হামলায় নিহতের সংখ্যা কমেছে| ২০১৭ সালে যেখানে প্রাণ হারিয়েছিলেন ৯ হাজার ৭৮৩ জন, ২০১৭ সালে প্রাণ হারিয়েছেন ৪ হাজার ২৭১ জন| মৃত্যুর হার কমেছে ৫৬ শতাংশ| এই বৈঠকে জেহোফার ও অভ্যন্তরীণবিষয়ক ইউরোপিয়ান কমিশনার ইলভা জোহানসন যদিও জোর দিয়ে বলেছেন যে অভিবাসন ও সন্ত্রাসবাদ বিষয়ে আলাদাভাবে চিন্তা করা উচিত, বিবৃতিতে ধরা পড়ছে একটু ভিন্ন মত| বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘আমাদের আধুনিক, বহুত্ববাদী ও উন্মুক্ত সমাজকে সংহত রাখতে সাম্যের প্রয়োজন| পাশাপাশি, সবাইকে এই ধারণার সঙ্গে একাত্মবোধ করতে হবে| স্বচ্ছ অর্থায়নের মাধ্যমে বিভিন্ন জাতীয়, নাগরিক ও ধর্মীয় সংস্থার বিরূপ প্রভাব সীমিত করতে হবে|’ কিন্তু ইউরোপিয়ান পার্লামেন্টের আরেক সদস্য গ্রিন পার্টির এরিক মারকার্ডট এ বিষয়ে সতর্ক করেন| তিনি মনে করেন, এ বছর ভিয়েনায় ও ২০১৫ সালের প্যারিস হামলায় অভিযুক্তরা ছিল ইইউ নাগরিক| তাই সন্ত্রাসবাদকে শুধু অভিবাসনের সঙ্গে যুক্ত করতে বারণ করেন তিনি| তার মতে, ‘ইসলামিস্ট র্যাডিকালাইজেশন একটি ইউরোপিয়ান সমস্যা| এই সমস্যাকে এখান থেকে কোথাও ফিরিয়ে দেওয়া যাবে না|’ ডয়চেভেলে
