মেহেরপুর সুইপার কলোনি
মাহাবুব চান্দু, মেহেরপুর প্রতিনিধি
‘সারা শহর হাম পরিষ্কার করতাহে, অর হামারা ঘরমে নোংড়া হে। মেরা বেটাকো লেখাপড়া কারাইয়া, লেকিন সরকার হামারা আওলাদকো নকড়ি নেহি দেতা।’ আক্ষেপ করে নিজেদের ভাষায় কথাগুলো বলছিলেন মেহেরপুর সুইপার কলোনির দলনেতা মিঠু বাঁসফোড়। মেহেরপুরের দলিত জনগোষ্ঠীর কলোনির বাসিন্দাদের নিয়ে সরেজমিন প্রতিবেদন করতে গেলে সম্প্রতি কথা হয় তার সঙ্গে। তিনি জানান, শতবর্ষ আগে মেহেরপুরে গড়ে উঠে এ কলোনি। বিভিন্ন জনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কলোনিতে টিনশেডের রুম আছে ৪২টি। প্রত্যেক পরিবারের জন্য একটি রুম ও ছোট্ট একটি বারান্দা বরাদ্দ। মা-বাবা, মেয়েছেলে ও ছেলের বউ এই একটি ঘরেই বসবাস করেন। মেয়েদের খোলা জায়গাতেই গোসল করতে হয়। এখন এই কলোনিতেই বসবাস করছেন প্রায় ৬০টি পরিবারের ২০০ মানুষ। টয়লেট রয়েছে চারটি। তাছাড়া, প্রার্থনার জন্য স্থায়ী কোনো মন্দির নেই। ভিড় ভিড়ি নামক স্থানে একটি শ্মশান ঘাট থাকলেও সেখানে যাওয়ার নির্দিষ্ট কোনো রাস্তা নেই। কলোনির বাসিন্দা পার্থ বাঁসফোড় বলেন, মেহেরপুর পৌরসভাতে আমরা ১৩৫ জন পরিছন্নতাকর্মী হিসেবে চাকরি করি। বেতন পাই মাসে মাত্র ৩ হাজার ৬০০ টাকা। এ টাকাতে ১০ দিনও চলে না। কলোনির ভেতর নর্দমার দুর্গন্ধ ও মনের কষ্ট নিয়ে যুগ যুগ ধরে বেঁচে আছি।
জানা যায়, কলোনির রয়েছে কিছু নিজস্ব প্রথা। কলোনির মেয়েদের বেশির ভাগই ১৫-১৬ বছর হলেই বিয়ে দিয়ে দেন বাবা-মা। নিজেদের গোষ্ঠীর মধ্যেই বিয়ে হয় তাদের। তবে নিজ কলোনিতে নয়, অন্য কলোনিতে। প্রতি পাঁচ বছর পরপর গোষ্ঠী প্রধানসহ কমিটি নির্বাচিত হয়। মিঠু ও ফুলকুমারি বাঁসফোড় দম্পতির ছেলে বর্তমানে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিক্স বিষয়ে স্নাতক পড়ছেন। বর্তমানে কলোনির তিন জন বিশ্ববিদ্যালয়ে, ছয় জন কলেজে এবং ২৪ থেকে ২৫ জন স্কুলে পড়াশুনা করছেন। এ বিষয়ে মেহেরপুর পৌরসভার মেয়র মাহফুজুর রহমান রিটন বলেন, ইতিমধ্যে দলিত শ্রেণির লোকজনের জন্য একটি স্কুল ও পাঁচতলা বিশিষ্ট ভবনের জন্য প্রকল্প তৈরি করা হয়েছে। খুব অল্প সময়ের মধ্যে এই কাজটি বাস্তবায়িত হবে। এছাড়াও সার্বক্ষণিক পৌরসভার পক্ষ থেকে তাদের খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। আমরা তাদের নিয়ে একটি সমবায় সমিতি করেছি যাতে সুইপার কলোনির লোকজনের বিপদে-আপদে সেখান থেকে আর্থিক সহযোগিতা পায়। এছাড়াও আমি মেয়র হওয়ার পর তাদের বেতন বাড়িয়েছি। আগামীতে আরো বৃদ্ধি করা হবে।
