মো. আবদুল হক রেনু, শায়েস্তাগঞ্জ (হবিগঞ্জ)
হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার সুতাং এলাকার কৃষকরা বন্য শূকরের উপদ্রবে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। কয়েক মাস যাবত্ একের পর এক জমির পাকা ধান বিনষ্ট করছে শূকরের পাল। এদের হাত থেকে ফসল রক্ষার জন্য কৃষকদের বিরামহীন প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে রাতের বেলা প্রতিটি জমিতে মশাল জ্বালিয়ে রাখা হয়। কারণ শূকররা আগুন দেখলে ভয় পায়। তবুও রক্ষা করা যাচ্ছে না জমির ফসল। তথ্যে জানা যায়, শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার সুরাবই, পুরাসুন্দা ও লাদিয়া গ্রামে এদের উত্পাত সবচেয়ে বেশি। ফলে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে গ্রামবাসী। রাত নেমে এলেই পাহাড় থেকে খাদ্যের সন্ধানে দল বেঁধে লোকালয়ে হানা দেয় এরা। কখনো ধানখেতে এসে হানা দেয় এবং জমির ফসল নষ্ট করে ফেলে। এদিকে কৃষকদের শেষ সম্বল পাকা ধান হারিয়ে অনেক কৃষকই দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। এর আগে শূকররা কৃষিজমির নানারকম ফসলাদি সাবাড় করছিল। বন্য শূকরের ভয়ে রাতে শিশুরা ঘর থেকে বের হতে পারে না। অনেক গ্রামে ঢুকে খাদ্য না পেলে রাতের আঁধারে মানুষের ঘরে ঢোকার চেষ্টাও করে থাকে।
উপজেলার সুরাবই গ্রামের আবদুর রহিম আশাহত হয়ে বলেন, ‘বন্য শূকর একটি খুবই হিংস্র প্রাণী। এদের থেকে বাঁচার পথ দেখছি না।’ একই গ্রামের মো. তওহিদ মিয়া বলেন, ‘গ্রামের পাশেই পাহাড় থাকায় এদের সংখ্যা অনেক বেড়েছে। এদের জন্য আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছি আমরা। এরমধ্যে আমার দুই একর পাকা ধান নষ্ট করেছে। এমনকি ধানের খড়ও অবশিষ্ট রেখে যায়নি শূকরের পাল। একই গ্রামের হেলিম মিয়া বলেন, ‘আমি বর্গা জমি চাষ করি। আমার দেড় একর পাকা ধান নষ্ট করে ফেলেছে। আমি এখন কী খেয়ে বেঁচে থাকব? সুতাং অঞ্চলে কমপক্ষে ৫০ একর পাকা ধানের ক্ষতি করেছে শূকরের পাল। এভাবে চলতে থাকলে ওই এলাকার মানুষকে না খেয়ে থাকবে। হবিগঞ্জ জেলা বন বিভাগের অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত জেলা বন কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম চৌধুরী এ বিষয়ে বলেন, হয়তো বনে খাদ্য কমে গেছে, তাই তারা লোকালয়ে হানা দিচ্ছে। এদেরকে ঢাক-ঢোল পিটিয়ে ভয় দেখিয়ে তাড়িয়ে দিতে হবে। এদেরকে রক্ষা করার জন্য সরকার থেকে আবার নির্দেশ রয়েছে। তবুও সাধারণ মানুষকে সচেতন করার জন্য তিনি এ বিষয়ে রেঞ্জ কর্মকর্তাকে অবহিত করবেন বলে জানান।
