মোবাইল ব্যাংকিং সার্ভিস চার্জ সিঙ্গেল ডিজিট করুন

আপডেট : ১৪ নভেম্বর ২০২০, ২১:৪৪

বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশনের দাবি

গ্রাহক নিরাপত্তা জোরদারের দাবি

ইত্তেফাক রিপোর্ট

মোবাইল ব্যাংকিংয়ের সার্ভিস চার্জ সিঙ্গেল ডিজিট করা এবং গ্রাহকদের অর্থের নিরাপত্তা জোরদারসহ পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশন। এ খাতের বাজারে প্রতিযোগিতাপূর্ণ পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে মোবাইল ফোন অপারেটরদের মতো মোবাইল ব্যাংকি-এ এসএমপি বাস্তবায়ন, এ খাতের সব সেবার ওপর ভ্যাট ১৫ শতাংশ থেকে নামিয়ে ৫ শতাংশে নির্ধারণ এবং আন্তঃলেনদেন চার্জ মুক্ত রাখার দাবি জানানো হয়েছে। গতকাল শনিবার সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির নসরুল হামিদ মিলনায়তনে ‘মোবাইল ব্যাংকিং-এর যৌক্তিক সার্ভিস চার্জ নির্ধারণ, চার্জমুক্ত আন্তঃলেনদেন ও গ্রাহক নিরাপত্তায় করণীয়’ শীর্ষক আলোচনাসভায় বক্তারা এ দাবি জানান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিটিআরসির ভাইস চেয়ারম্যান সুব্রত রয় মিত্র বলেন, নগদ সার্ভিস চার্জ কমিয়ে আমাদের চোখ খুলে দিয়েছে। সার্ভিস চার্জ যে কমানো সম্ভব এতদিন বোঝা যায়নি। নগদ যেহেতু সার্ভিস চার্জ কমাতে সক্ষম হয়েছে তার মানে অন্যরাও চাইলে কমাতে পারবেন। এ ব্যাপারে বাংলাদেশ ব্যাংকের কস্ট মডেলিং করে যৌক্তিক সার্ভিস চার্জ নির্ধারণ করা উচিত।

টেলিফোনে যুক্ত হয়ে সৈয়দ আবুল মকসুদ প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষকে স্বস্তি দিতে সরকারকে সার্ভিস চার্জ কমানোর বিষয়টি বিবেচনা করতে অনুরোধ জানান। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ডাক বিভাগের মোবাইল ব্যাংকিং সেবা নগদের চিফ সেলস্ অফিসার শেখ আমিনুর রহমান বলেন, ‘নগদ সরকারের সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে লাভের কথা চিন্তা না করে জনগণের সাধ্য ও সামর্থ্যের কথা চিন্তা করে সার্ভিস চার্জ কমিয়েছে। আশা করছি, আগামীতে নগদ আরো জনবান্ধব কার্যক্রম পরিচালনা করবে।’ গ্রাহক নিরাপত্তার বিষয়ে তিনি কেন্দ্রীয় ব্যাংক, বিটিআরসি, অপারেটর ও গ্রাহককে সতর্ক ও সচেতন থাকার আহ্বান জানান।

এসময় বিটিআরসির সার্ভিস বিভাগের পরিচালক লে. ক. মো. আজিজুর রহমান সিদ্দিকী বলেন, ‘এমএফএস প্রতিষ্ঠান রিটেইলার ও ডিস্ট্রিবিউটর কর্তৃক গৃহীত চার্জের সঠিক কস্ট মডেলিং জরুরি প্রয়োজন। ১ দশমিক ৮৫ শতাংশ সার্ভিস চার্জের বাকি শূন্য দশমিক ০১৫ টাকার কখনো কোনো হিসাব পাওয়া যায় না। এ হিসাবে অনৈতিক ভাবে প্রায় ৩৫০ কোটি টাকা গ্রাহকদের কাছ থেকে নেওয়া হয়েছে। যার কোনো সঠিক হিসাব কারো কাছে নাই। যতক্ষণ পর্যন্ত এই অংক কোনো বাস্তব লেনদেন সম্পন্ন ফিগারে পরিবর্তন করা না হবে ততক্ষণ পর্যন্ত গ্রাহক ক্ষতিগ্রস্ত হতে থাকবে।’ অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. সায়মা হক বিদিশা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএর সহযোগী অধ্যাপক খালেদ মাহমুদ, সিপিবির সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স, দৈনিক সমকালের বিশেষ প্রতিনিধি রাশেদ মেহেদী বক্তব্য রাখনে। মূল বক্তব্যে সংগঠনের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, ২০০৯ সালে সরকার ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে ভিশন-২০২১ ঘোষণা করে। যেখানে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে ব্যাংকিং সেবা প্রদানই ছিল এর মূল লক্ষ্য। তিনি বলেন, মোবাইল ব্যাংকিংসেবা বাণিজ্যিক ব্যাংকে লেনদেনের হয়রানি, দীর্ঘ সময় ব্যয়, যাতায়াতের ঝামেলা মুক্ত করলে এ সেবা খাতের অযৌক্তিক সার্ভিস চার্জ ও নিরাপত্তা ঝুঁকি গ্রাহকদেরকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে। ২০১৪ সাল থেকে আমরা সার্ভিস চার্জ কমিয়ে যৌক্তিক পর্যায়ে আনতে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছি।